মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিন সমুদ্র এলাকায় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ : ১৪ জনকে আটক

🗓 মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ :: টেকনাফের সেন্টমার্টিন সমুদ্র এলাকা দিয়ে মায়ানমারে পাচারের সময় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ এবং চক্রের মূলহোতাসহ ১৪ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিমের গভীর সমুদ্র এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় একটি সন্দেহজনক মাছধরা নৌযানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়, যা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

এ ঘটনায় নৌযানসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়।

তারা হলেন- বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প১। আজিম উল্লাহ (৩৯)

সারিকাইত, ৪ নং ওয়ার্ড, সন্দীপ, চট্টগ্রাম এর

২। মোঃ জাফর (৪৫),৩। সম্পদ দাশ (৩৮),৪। মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০),৫। মোঃ রবিউল আলম,৬। চাঁন মিয়া (৩৯,৭। মোঃ ইলিয়াস (৪২),৮। মোঃ রিপন (২৬),৯। মোঃ আরিফ (২৫),১০। মো আলাউদ্দিন (২৬),১১। মোঃ নোয়াব (৪৫),১২। মো মামুন (২৬).১৩। মোঃ আরমান (১৯).১৪। মোঃ মান্নান (২২)।

আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা, পাশাপাশি একজন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

পরবর্তীতে আটক নৌকার মাঝির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর যৌথ অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই পাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আজিম উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় একটি পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল।

সে মায়ানমারে অবস্থানকারী এক সহযোগীর কাছ থেকে পণ্যের চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া অঞ্চলের কিছু অসাধু নৌযান মালিকের সহায়তায় এসব পণ্য পাচার করত।

অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্য মায়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছেও সরবরাহ করা হতো।

এছাড়া পাচারের বিনিময়ে মাদক ও বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করত বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে বিপুল অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর পরিচালিত এ অভিযানে চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জব্দকৃত সিমেন্ট, নৌযান এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, পাচার ও চোরাচালান রোধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর