বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের সার্ভিস শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে সার্ভিসটি নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করবে।
এর আগে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পর চট্টগ্রাম থেকে কোনো ট্রেন ছিল না।
স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনে দুটি কোচ বরাদ্দ দিয়ে যাত্রী চাহিদা মেটানো হয়।
পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচ দিয়ে দুই জোড়া ট্রেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দেয়া হলেও সার্ভিস ছিল নিম্নমানের।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে একটি ১৬/৩২ রেকের দ্বিতীয় শ্রেণীর রেক দিয়ে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন চলাচল শুরু করে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।
একটি মাত্র রেক প্রতিদিন চারবার চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে দুটি ট্রেন নাম দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছিল।
প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার ভ্রমণ সময়ের কারণে প্রায়ই ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয় হয়। তাছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণীর দীর্ঘদিনের পুরনো কোচের কারণে সেবার মানও ছিল নিম্ন।
অবশেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের অবমুক্ত রেক দিয়ে পাঁচ বছর আগে আমদানীকৃত ইন্দোনেশিয়ান কোচের আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা শুরু করবে রেল কর্তৃপক্ষ।
আগে নন-এসি প্রথম সিট, শোভন চেয়ার ও শোভন শ্রেণীর কোচ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করলেও এবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) আসন ও কেবিন যুক্ত হবে ট্রেনটিতে।
এজন্য আগের শোভন শ্রেণীর কোচ বাদ দেয়া হচ্ছে।
ট্রেনটিতে একটি এসি কেবিন, একটি নন-এসি কেবিন, তিনটি এসি চেয়ার, আটটি নন-এসি শোভন চেয়ার, দুটি গার্ড ব্রেক এবং একটি পাওয়ার কার কোচ থাকবে।
সব মিলিয়ে ট্রেন দুটির প্রতিটিতে সাড়ে ৭০০ যাত্রী পরিবহন হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে সাপ্তাহিক বন্ধের (সোমবার) দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় সৈকত এক্সপ্রেস।
কক্সবাজার পৌঁছে সকাল ১০টায় প্রবাল এক্সপ্রেস নাম ধারণ করে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
আবার বিকালে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর আবার বেলা ৩টা ১০ মিনিটে প্রবাল এক্সপ্রেস নাম নিয়ে এ ট্রেন কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
সর্বশেষ কক্সবাজার থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সৈকত এক্সপ্রেস নামে চট্টগ্রামের বেইজ স্টেশনে ফিরে আসে ট্রেনটি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার পর্যন্ত দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই ট্রেনের যাত্রী চাহিদা বেশি।
ঢাকার পর চট্টগ্রামেও যাত্রী চাহিদা থাকায় কক্সবাজার রুটের বিদ্যমান দুটি ট্রেনকে পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের রূপ দেয়া হচ্ছে।
কোরিয়া থেকে সদ্য আমদানি হওয়া কোচগুলো সংযোজনের পর ওইসব ট্রেনের রিলিজ কোচ দিয়ে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসে সংযোজন করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া থেকে চার-পাঁচ বছর আগে আমদানি হওয়া প্রায় নতুন কোচ সংযোজনের ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের যাত্রীরা বাড়তি সেবাপ্রাপ্তির পাশাপাশি রেলের রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।’
যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত ব্রিটিশ আমলেই রেলপথে নিয়মিত একাধিক ট্রেন সার্ভিস ছিল।
কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য কোনো ট্রেন রাখা হয়নি।
বর্তমানে চলাচল করা প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি কয়েক দশক আগের আমদানি করা কোচ দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সংগঠনের আন্দোলন ও চাপের মুখে রেলওয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন কোচ সংযোজন করছে।
নিয়মিত রেকের পাশাপাশি ট্রেন দুটির জন্য অন্তত তিন-চারটি স্পেয়ার কোচ মজুদ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।’
উল্লেখ্য, কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া কোচ দিয়ে ১৬/৩২ রেক কম্পোজিশনে গত ১০ মার্চ নতুন রূপে সার্ভিস শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস।
ট্রেনটির অবমুক্ত ইন্দোনেশিয়ান কোচগুলো পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে নিয়ে কিছুটা মেরামত ও ফিট দিয়ে প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেসের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রেল ভবনের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর পর নির্দেশনা পেলে আগামী পহেলা বৈশাখের দিন থেকে আধুনিক কোচ দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।















