রোতাব চৌধুরী :: দেশের দক্ষিণের শস্যভাণ্ডার খ্যাত কক্সবাজার জেলা। এ জেলার বাঁকখালী ও মাতামুহুরি নদীর তীর এখন নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ।
নদীর তীরের উর্বর পলি মাটিতে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষে ভরে উঠেছে। এসব ফসলের মাঠ এখন নানা রকম পাখ-পাখালির কলতানে মুখর।
জেলার রামু ও সদর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা বাঁকখালী নদী এবং বান্দরবানের পাহাড়ি জলস্রোত হয়ে চকরিয়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদীর বুকচিরে এক সময় বড় বড় নৌকার চলাচল ছিল।
সেই নদী ভরাট হয়ে ফসলের সবুজ মাঠে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরের দিকে থাকালে শুধুই সবুজের সমারোহ।
নদীর পলি মাটিতে চাষ হচ্ছে ধান,ভুট্টা, বাদাম,সরিষা,টমোটো,আলু,মরিচ, বাঁধকপি, ফুলকপি,বেগুন,মুলা,ফরাস শিম,পেঁয়াজ, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া,কাঁকরোল,ঝিঙা, চিচিঙ্গা,আখ,মিষ্টি পানসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি।
চাষ হচ্ছে পরিবেশের ক্ষতিকর তামাক চাষ।নদীর দুই পাড়ে এখন কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা সতেজ ফসল বাতাসে দোল খাচ্ছে।
নদীর যে সকল স্থান আগেই শুকিয়ে গেছে, সে সকল স্থানে একটি ফসল তুলা শেষ করে নতুন আরেকটি ফসল চাষ হচ্ছে পুরোদমে। কয়েক বছর আগে নদীতে প্রচুর পরিমাণে বালি ছিল।
কিন্তু এখন পলি পরে কিছু কিছু স্থানে বালি না থাকায় নদীর মাঝে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে।
এ ছাড়া মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী চকরিয়া ও পেকুয়ায় অগ্রিম সবজি চাষ করছেন চাষীরা।
এখন এসব শীতকালীন সবজি কক্সবাজার জেলার সকল বাজার দখল করে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমান বলেন, নদীর চরের জমি খুবই উর্বর। ফলে দানাদার ফসলের পাশাপাশি সবজি উৎপাদনও বেশি হয়।
একারণে সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকেরা যাতে ভালো ফসল ফলাতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, বর্ষায় মাতামুহুরি নদীর দু-পাশের অধিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নেমে বন্যায় কৃষকদের গোলাজাত শস্যসহ ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।
পরবর্তীতে এসব জমিতে মাটির জন্যে উর্বর পলি পড়ায় উক্ত মাতামুহুরি নদী কৃষকদের জন্যে আশির্বাদ হয়ে আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষ করে অধিক লাভবান হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, এ সময়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম হয়ে থাকে কক্সবাজারে। পাশাপাশি এখানে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস।
এতে সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় অগ্রিম সবজি চাষের পরে শীতকালীন সবজি চাষ করে জেলার চাহিদা পুরনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতেছে বাকখালী ও মাতামুহুরি নদী। আবহাওয়া ও মৌসুম ভালো থাকায় এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো মূল্যও পাচ্ছে কৃষকেরা।
এছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি স্বরুপ তামাক চাষ বিষয় তুলে ধরে তামাক চাষ না করার জন্য কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টি করার পরও অধিক লাভ ও বিভিন্ন তামাকজাত কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা এবং উৎসাহে কৃষকেরা তামাক চাষ করে থাকে।
তিনি আরো বলেন জেলার ৪ হাজার ৩০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।














