শুক্রবার ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদগাঁওতে অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার দাবী

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৪১ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৪১ বার দেখা হয়েছে

এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও :: কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজারসহ আশপাশ এলাকার অলিগলি জুড়ে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

নামমাত্র অনুমোদনের আবেদন দেখিয়ে মাসের পর মাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার।

ফলে একদিকে রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভুল চিকিৎসায় ঘটছে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাও।

জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁও বাজার ও আশপাশ এলাকায় ডজনাধিকেরও বেশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।

তৎমধ্যে ৩টি হাসপাতাল ও ১টি ল্যাব অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চলছে অবৈধভাবে।

অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্য রয়েছে, ঈদগাহ মডেল হাসপাতাল,ঈদগাহ মেডিকেল অ্যান্ড হাসপাতাল, ঈদগাঁও আধুনিক হাসপাতাল ও পপুলার ল্যাব।

তবে অভিযোগ যে, অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠানও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত নীতিমালা মানছেনা।

অপারেশন থিয়েটারে অনিয়ম অভিযোগ অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি, নেই পোস্ট-অপারেটিভ রিকভারি রুম,নেই অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন, মনিটর কিংবা ভেন্টিলেটর, নেই দক্ষ সার্জন ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট।

যার ফলে অপারেশনের সময় রোগীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

ল্যাব ও এক্স-রে বিভাগেও অনিয়ম-শিক্ষিত টেকনোলজিস্ট ছাড়াই চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা,এক্স-রে মেশিনে নেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন,রেডিয়েশন সুরক্ষায় নেই মানসম্মত ব্যবস্থা।

এছাড়া ইসিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পর্যন্ত আয়া, ক্লিনার কিংবা ওয়ার্ডবয় দিয়ে করানো হচ্ছে,যা চরম উদ্বেগজনক।

সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অনিয়ম দেখেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। নেই কোন প্রকার তদারকি।

এদিকে অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান-আল হেরামাইন হাসপাতাল,ঈদগাহ সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল মদিনা ডক্টরস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,মীম এক্স-রে সেন্টার,নাবিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার,জমজম হাসপাতাল, সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার,দিপু প্যাথলজি সেন্টার,নিউরন মেডিকেল সেন্টার,আল শেফা হাসপাতাল,নিউরোসেন্স হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।

অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মইনুদ্দিন মোর্শেদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিভাগ এর আরো খবর

টেকনাফে ৬ কোটি টাকার চিংড়ি রেণু জব্দ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর