বুধবার ১৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও আলোচনায় সমুদ্র পথে রোহিঙ্গা পাচার নেটওয়ার্ক

🗓 মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৫২ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৫২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: আন্দামান সাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নিখোঁজের ঘটনার পর সামনে এসেছে মানবপাচার চক্রের তথ্য।

জীবন বাঁচানোর আশায় ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়া মানুষদের দুর্দশা আর সেই সুযোগে গড়ে ওঠা অবৈধ নেটওয়ার্ক, সব মিলিয়ে করুণ চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্সের বিশেষ সাক্ষাৎকারে।

সম্প্রতি আন্দামান সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি। তাদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আত্মগোপনে আছেন রোহিঙ্গা পাচারকারী মোহাম্মদ ফয়সাল।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান ওই দিনের ভয়াবহ স্মৃতির কথা ।

মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘আমার ধারণা আন্দামান সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কোনো যাত্রীই বেঁচে নেই। কেউ যদি বেঁচেও থাকে, তারা হয়তো এখন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছে।

আমি তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না। আমি ওই নৌকায় ৫ নারী-শিশুসহ ২০ জনকে পাঠিয়েছিলাম।’

বর্তমানে তিনি বলেন, ঝুঁকির কথা জেনেও উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেয় রোহিঙ্গারা।

মোহাম্মদ ফয়সাল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্যাম্পে মানুষ খুব কষ্টে আছে। অভাব আর নির্যাতনে তাঁরা অতিষ্ঠ।

তাঁরা আমাদের কাছে আসে, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য। তারা ঝুঁকির কথা জানে, তবুও যায়। কেউ বাঁচে, কেউ ধরা পড়ে, কেউ মারা যায়।’

মাত্র ২৪ বছর বয়সী ফয়সাল মালয়েশিয়ায় দুই বছর কাজ করার পর, পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৮ সালে নিজেও এমন এক বিপজ্জনক যাত্রায় অংশ নেন।

মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘আমি সাত দিন সমুদ্রে ছিলাম। তার পর থাইল্যান্ডে পৌঁছাই। সেখানে পাচারকারীরা আমার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেয়।

ওখানে থেকে আমি শিখেছি কীভাবে মানুষ পাঠাতে হয়। দেশে ফিরে আর কোনো কাজ ছিল না, তাই এই কাজে জড়িয়ে পড়ি।’

নিজের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফয়সাল জানান, শিবিরে হতাশা ও দারিদ্র্য এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে পাচার চক্র।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর