কক্সবাংলা রিপোর্ট :: উৎসব কিংবা দীর্ঘ ছুটি এলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।
আসন্ন ঈদুল আজহার টানা ছুটিকেও কেন্দ্র করে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠতে শুরু করেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, ঝাউবন ও নীল জলরাশি বরাবরই পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি, ইনানী ও পাটোয়ারটেক ছাড়াও সোনাদিয়া দ্বীপ, রামুর বৌদ্ধবিহার, চকরিয়ার সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির এবং টেকনাফের বিভিন্ন সৈকতেও এবার বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতি বছর ঈদকে ঘিরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও এবার সেই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।

ইতোমধ্যে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে জমে উঠবে পুরো পর্যটন নগরী। এতে ঈদের ১০ দিনে প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের বুকিং প্রায় পূর্ণতার দিকে।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন হোটেলে বিশেষ ছাড় ও ঈদ প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বিষয়েও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুধু হোটেল ব্যবসাই নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটননির্ভর পুরো অর্থনীতি।
রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ফটোগ্রাফার, শুঁটকি ও বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ীসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল ও বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্প। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি।
একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার বলেন, “কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহর। ঈদে দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে।
তাদের নিরাপদ ভ্রমণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পট ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, “ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী বিচকর্মীদের পাশাপাশি তিনটি ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট টিম সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় থাকবে।
কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে অভিযোগ জানানো মাত্রই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিম দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”














