রোতাব চৌধূরী :: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহযোগিতায় কীটতত্ত্ব বিভাগ ব্রি গাজীপুর কর্তৃক পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়নে নিরাপদ ফসল ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ধানের সমন্বিত পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনা শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে রামুর চাকমারকুল এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুর এর পরিচালক (গবেষণা) ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর কীটতত্ত্ব বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন, প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: নজমুল বারী, ব্রি কক্সবাজারের সাইন্টিফিক অফিসার মোজাম্মেল হক,স্থানীয় উপসহকারি কৃষি অফিসার মো: জাকারিয়া, মিজানুর রহমান।
প্রশিক্ষণে ৬০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
এতে প্রধান প্রশিক্ষক ড. নজমুল বারী ধানের চারা রোপণের পর ৪০ দিন পর্যন্ত কীটনাশক প্রয়োগ না করে উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বআরোপ করেন।
তাহলে কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই কিংবা একবার মাত্র ব্যবহার করে ধানের পোকামাকড় দমন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ফসলের মাঠে কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন করার সুফল প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, কীটনাশক মারাত্মক বিষ। এটি মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কীটনাশক ব্যাবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
কৃষি কাজে এর ব্যবহার অতিরিক্ত হওয়ায় দিন দিন আমরা এটিকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখতে শুরু করেছি, আমাদেরকে কীটনাশক ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব কীটনাশক ব্যাবহার করে ফসলের জমিকে রক্ষা করতে হবে।
উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন,আইপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে বিষমুক্ত ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।
এছাড়াও প্রাকৃতিক উপকরণের মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি বিস্তারে কৃষকদের নানা পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আসছি।
প্রশিক্ষণ পরবর্তীতে বিকালে একই এলাকায় মাঠে চাষকৃত ব্রি ধান-১০১ জাতের প্রদর্শনী প্লটের শস্য কর্তন করেন এবং শতাধিক কৃষকের অংশগ্রহণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষক ছাবের হোসেনের জমির অর্ধেক অংশে কীটনাশক ব্যবহার না করে জমির আইলে ফুলের চারা রোপন করা হয় যাকে বলা হয় ইকো ইন্জিনিয়ারিং।
একই জমির অপর অংশে কৃষক তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করেন কিন্তু ইকো ইন্জিনিয়ারিং পদ্ধতি চাষকৃত জমিতে ফলন হয় ৬.১৩ টন/ হে্ক্টর এবং তিনবার কীটনাশক প্রয়োগকৃত অংশে ফলন হয় ৫.৯৯ টন / হেক্টর।














