শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় বনভূমি ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, তদন্তের আবেদন

🗓 শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

👁️ ১৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

👁️ ১৪ বার দেখা হয়েছে

এস এম, জোবাইদ,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ অর্থ গ্রহণ, বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান মামুন এবং টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মোমিনের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ উত্থাপন করে গত বুধবার (২৪ জুন) বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম বরাবর এক লিখিত আবেদন করেন পেকুয়া পৌরসভার বাসিন্দা ও দৈনিক নতুন সময়ের পেকুয়া প্রতিনিধি নিজামুল ইসলাম নিজাম।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, টৈটং ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মোমিন এবং সংশ্লিষ্ট বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ অর্থ লেনদেন, বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক সংবাদ জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ, বালু উত্তোলন এবং বনজ গাছ নিধনের মতো কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এসব অনিয়ম ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।

লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, টৈটং ইউনিয়নের খুন্ন্যা ভিটার পশ্চিম পাশে রিয়াদ ও সেলিম নামে দুই ব্যক্তি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে। চৌকিদারপাড়া এলাকায় নেজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন ওকান থেকে গত ১৬ জুন একটি বালুভর্তি ডাম্পার আটক হলেও পরে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবগত করলে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনিও স্বীকার করেন। এছাড়া ২১ জুন বন পাহারাদার সর্দার ফিরোজ হাসান ঝুম ব্রিজ এলাকায় একটি গাছভর্তি ডাম্পার আটক করে বিষয়টি বিট কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়িটি বিট অফিসে নেওয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি জব্দ না করে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।

টৈটং গুদিকাটা মাঠের উত্তর পাশে মকশিয়ার সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় কেটে ব্যাপকভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হয়েছে। গর্জনিয়া পাড়ায় সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম সংরক্ষিত বনভূমিতে ৯ কক্ষবিশিষ্ট একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন এবং এ জন্য প্রায় ২ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে।

একইভাবে বনকাননের পশ্চিম পাশে আব্দুল মজিদ ও মৌলভী হাসানের জুম এলাকায়, চৌকিদারপাড়ায় এবং খুন্ন্যা ভিটার পূর্ব পাশে চারাখোলা এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ও নিয়মিত বালু উত্তোলনও করা হয়।

টৈটং গলাছিরা তথা বারবাকিয়ার তিনমোয়া এলাকায় এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পাহাড় কেটে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং একই সঙ্গে দিনরাত পাহাড় ভেঙে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এছাড়া কাটা পাহাড় এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী মোহসেনা সংরক্ষিত বনভূমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন এবং এ জন্য ৩০ হাজার টাকা অবৈধভাবে প্রদান করা হয়েছে। বনজ গাছ, পাহাড়ের মাটি ও বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতি গাড়ি থেকে ৪০০ টাকা এবং বনজ গাছ পরিবহনে ব্যবহৃত টমটম গাড়ি থেকে ২০০ টাকা করে অবৈধ অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযোগকারী মো. তারেক বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গভীর তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর