বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেন টিউমারের ভুল অপারেশনের অভিযোগ : মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন চকরিয়ার মাহাবুব, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

🗓 শনিবার, ০২ মে ২০২৬

👁️ ১৫১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০২ মে ২০২৬

👁️ ১৫১ বার দেখা হয়েছে

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: চট্টগ্রামে ব্রেন টিউমারের ভুল অপারেশন, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে এক নিউরোসার্জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার বাদী কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের এসএম চর কাকারা গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম।

তিনি গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিআর নং-১৩৪৮/২০২৫, পাঁচলাইশ) মামলাটি করেন।

মামলায় পার্কভিউ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক, নিউরোসার্জন ডা. মো. ইসমাইল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বিশ্ব মিত্র বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ২৬৯, ২৭০, ৪০৬, ৪২০, ৫০৬(২) ধারাসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাহাবুবুর রহমান (৫০) চকরিয়ার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সিকলঘাট এলাকার একজন কৃষক। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ডা. ইসমাইল হোসেন তার ব্রেন টিউমার শনাক্ত করে দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে অপারেশন না করলে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান।

চিকিৎসা ব্যয় ৭-৮ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানানো হলে পরিবার জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে অর্থ জোগাড় করে। পরে অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও হাসপাতালের বিলসহ মোট প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ল্যাবএইডে পরীক্ষা বাবদ ৮৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং অপারেশন ফি হিসেবে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

এছাড়া ২৭ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৯১৫ টাকা বিল পরিশোধের পর রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় এবং তাকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে বাড়িতে নেওয়ার পর মাহাবুবুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে তিন মাস পরে আসতে বলা হয়।

পরে ২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড জানায়, টিউমার আগের জায়গায় থেকেই আরও বড় হয়েছে এবং দ্রুত পুনরায় অপারেশন প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে পুনরায় ডা. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বাদীপক্ষকে অপমান করে বের করে দেন।

বর্তমানে রোগীর আবার অপারেশন প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

পরবর্তীতে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে ডা. আনিসুর রহমান রোগীকে ভর্তি করে পুনরায় অপারেশনের পরামর্শ দেন। তার মতে, আইসিইউ ও কেবিনসহ চিকিৎসা ব্যয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা হতে পারে।

বাদী আরিফুল ইসলামের দাবি, চিকিৎসক কৌশলে বিপুল অর্থ আদায় করলেও টিউমার অপসারণ করা হয়নি; বরং তা আরও বড় হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্তে সত্য উদঘাটিত হবে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. ইসমাইল হোসেন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

তিনি জানান, রোগীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে যতটুকু টিউমার অপসারণ করা নিরাপদ, ততটুকুই করা হয়েছে।

অতিরিক্ত অপসারণ করলে জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারত। অপসারিত অংশ থেকে বায়োপসির জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে এবং রোগী বর্তমানে জীবিত ও স্থিতিশীল আছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা। বিষয়টি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিঠি দিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সংশ্লিষ্ট অপারেশন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে মতামত চাওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের বিধান অনুযায়ী তার লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে।

তবে ফৌজদারি মামলায় দোষ প্রমাণে মেডিকেল বোর্ডের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রমাণের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে পড়ে।

ফলে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রমাণের জটিলতার কারণে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে বিলম্বের শিকার হন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অভিযোগ দায়েরের প্রবণতা বাড়ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর