মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ উত্তপ্ত কক্সবাজার শরনার্থী ক্যাম্প : টানা দুই দিনে দুই খুন, টিটিপি সংশ্লিষ্টতায় রোহিঙ্গা যুবক গ্রেপ্তার

🗓 বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

👁️ ৭০ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

👁️ ৭০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবারও সহিংসতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।

গত দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৬ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গুলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এতে গুলিবিদ্ধ হন মোহাম্মদ কামাল, যিনি আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) বা নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই বলে জানা গেছে।

পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা ব্যক্তিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৫ মে) উখিয়ার আরেকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক গুলির ঘটনায় কেফায়েত উল্লাহ হালিম নামে এআরএ-সংশ্লিষ্ট এক নেতা নিহত হন এবং আহত হন আরও দুইজন।

ওই ঘটনার সঙ্গেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, টেকনাফে টিটিপি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মাহমুদ উল্লাহ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিনি টেকনাফের জাদিমুড়া ২৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একই দিনে আদালতে পাঠানো হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে টিটিপি-সংক্রান্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ফোনে সন্দেহজনক বার্তা ও ডকুমেন্টও মিলেছে।

পুলিশের দাবি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।

জব্দকৃত ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর