কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে দেখা মিলেছে রহস্যময় আলোর দীর্ঘ রেখা।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় হঠাৎ আকাশজুড়ে উজ্জ্বল আলোর অস্বাভাবিক এই দৃশ্য ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই এর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা—ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রামসহ আরও কয়েকটি অঞ্চল থেকেও একই ধরনের আলোর ঝলক দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কোনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অংশ হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৮টার মধ্যে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে দেখা যায় উজ্জ্বল লম্বাটে আলোর রেখাটি।
অনেকের কাছে এটি টর্চলাইটের বিমের মতো মনে হয়েছে। পরিষ্কার আকাশ থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই দৃশ্যটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, টেকনাফ, উখিয়ার ইনানী সৈকতসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে দীর্ঘ আলোকরেখা ধীর গতিতে অতিক্রম করছে।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বা স্পারসো (SPARRSO) আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে একটি সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত ওড়িশা উপকূল ঘিরে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত আকাশপথে ‘নোটাম’ (NOTAM) জারি করেছিল ভারত, যা সাধারণত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় করা হয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, এটি ভারতের বহুল আলোচিত পারমাণবিক ওভারহেড বহনে সক্ষম অগ্নি সিরিজের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
আবার এটি ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও হতে পারে।
যদিও ভারত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম বা পরীক্ষার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের এমন সামরিক কার্যক্রম দেশটির কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।















