মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইসেন্স ও বৈধতা ছাড়াই সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য

🗓 মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

👁️ ৩০ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

👁️ ৩০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১২ মে) :: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সবখানেই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।

চালকদের অধিকাংশের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কিংবা যানবাহনের বৈধ নিবন্ধন।

তবুও প্রতিদিন নির্বিঘ্নে চলছে এসব তিন চাকার যান, যেন সড়কের নিয়ন্ত্রণই তাদের হাতে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এসব রিকশা নগরজুড়ে সৃষ্টি করছে তীব্র যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

একইসঙ্গে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চুরির অভিযোগও রয়েছে এই খাতকে ঘিরে।

জানা গেছে, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এর বড় একটি অংশ আসছে অবৈধ সংযোগ ও চোরাই লাইনের মাধ্যমে।

বৈধ চার্জিং স্টেশনের তুলনায় অবৈধ স্টেশনের সংখ্যাই কয়েকগুণ বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামী ১৪ মে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে রাজধানীতে যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে।

বিষয়টি সমাধানে ইতোমধ্যে ডিএমপি কমিশনার ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগামী বৈঠকে কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রশিক্ষণহীন চালকদের হাতে এ ধরনের যান তুলে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এতে যাত্রী ও পথচারী উভয়েই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীতে প্রায় ১৩ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। প্রতিটি গ্যারেজে গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি রিকশা রয়েছে।

এসব গ্যারেজের আওতায় রয়েছে প্রায় ৬৬ হাজার চার্জিং স্টেশন, যার অধিকাংশই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অনেকে আবাসিক মিটার কিংবা চোরাই সংযোগ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। ফলে অবৈধ চার্জিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।

যদিও এ বিষয়ে ডিপিডিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর মানিকনগর, মুগদা, মান্ডা, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, কামরাঙ্গীরচর, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ গড়ে উঠেছে।

অধিকাংশ গ্যারেজেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গ্যারেজ মালিকদের দাবি, সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করলে তারা নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রস্তুত।

তবে নগরবাসীর অভিযোগ, অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতির কারণে ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন সড়কের অন্যতম আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

মিরপুরের বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, “চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। একটু সুযোগ পেলেই দ্রুতগতিতে রিকশা চালান। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।”

এদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রধান সড়কে চলাচল ঠেকাতে ডাম্পিং, সিট জব্দ ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর