রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্মবিশ্বাস বা ঈশ্বরচেতনা অত্যন্ত বিশাল এবং বিচিত্র। তিনি কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না।
আমার জানার মধ্যে ঘাটতি আছে নিশ্চয়ই তবে আমি মনে করি রবীন্দ্রনাথ মূলত এক ঈশ্বরবাদেই বিশ্বাস করতেন।
তাঁর সেই ঈশ্বরচেতনা ‘একেশ্বরবাদ’ (Monotheism) থেকে কিছুটা আলাদা।
তাঁর সেই বিশ্বাসকে রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞরা সর্বেশ্বরবাদ বা প্যান্থেইজম’ (Pantheism) এবং উপনিষদের দর্শনের মিশেল বলে অভিহিত করেন।
তাঁর কাছে ঈশ্বর কোনো দূরবর্তী বা ভীতিপ্রদ সত্তা নন; বরং ঈশ্বর নিখিল বিশ্বের প্রতিটি ধূলিকণায় এবং মানুষের অন্তরে বিরাজমান।
রবীন্দনাথ ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করেছেন,
” আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে,
দেখতে আমি পাইনি
বাহির পানে চোখ মেলেছি
আমার হৃদয় পানে চাইনি।”
গানটি তাঁর আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য দলিল। এই গানটির মূল ভাবার্থ হলো— পরম সত্তা বা ঈশ্বর কোথাও দূরে নন, বরং তিনি মানুষের নিজের অন্তরের গভীরেই বিরাজমান, অথচ মানুষের অজ্ঞতা বা মোহের কারণে তা অগোচরে থেকে যায়।
তিনি বলছেন, ঈশ্বর আমার হৃদয়ের (হিয়ার) মাঝেই লুকিয়ে ছিলেন, কিন্তু আমি বাইরে তাঁকে খোঁজে বেড়িয়েছি।
আমাদের চোখ বাইরের জগতের চাকচিক্যে এতই মগ্ন থাকে যে, নিজের ভেতরে থাকা সেই পরম সত্যকে আমরা দেখতে পাই না।
রবীন্দ্রনাথের মতে,মানুষ যখন নিজের জ্ঞান বা কর্মের অহংকারে মত্ত থাকে, তখন সে ঈশ্বরকে অনুভব করতে পারে না।
গানের ভাষায়, আমরা বাইরের জগতে অনেক কিছু খুঁজি, অনেক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি, কিন্তু আসল সম্পদ যে আমাদের হৃদয়েই আছে, সেই বোধোদয় ঘটে অনেক পরে।
গানের পরের অংশে দেখা যায় এক পরম আর্তি। যখন ভক্ত বুঝতে পারে যে ঈশ্বর সারাক্ষণ তার সাথে ছিলেন কিন্তু সে তাঁকে অবজ্ঞা করেছে, তখন এক ধরণের মধুর অনুশোচনা তৈরি হয়।
আজ ২৫শে বৈশাখ। বাঙালির হৃদয়ের এক অনির্বাণ আলোকবর্তিকার জন্মদিন। এই দিনটি শুধু একজন কবির জন্মদিন নয়; এটি বাংলা সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবতার এক সুন্দরতম উৎসব।
কবিগুরু -এর জন্মদিনে নজরুল-আব্বাসউদ্দিন সেন্টার কক্সবাজার-এর পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও বিনম্র স্মরণ।
তাঁর সৃষ্টি, তাঁর মানবধর্ম এবং তাঁর চেতনা যুগে যুগে সব অমানুষদের হৃদয় আলোকিত করুক।














