কক্সবাংলা ডটকম(৮ মে) :: ঢাকায় ৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সাংবাদিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এমআরডিআই আয়োজিত এই কনফারেন্সের সেশন তালিকা প্রকাশের পর অনেকের মধ্যেই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, পুরো আয়োজনটিতে একটি নির্দিষ্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রাধান্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সম্মেলনের মোট ১১টি সেশনের মধ্যে অধিকাংশেই অংশ নিচ্ছেন একটি জাতীয় দৈনিকের বর্তমান ও সাবেক সাংবাদিকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও দুটি মাস্টারক্লাস বাদ দিলে দেখা যায়, বাকি প্রায় সব সেশনেই সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
এমনকি একজন সাংবাদিককে একাধিক সেশনে রাখা হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিক মহলে।
সমালোচকদের ভাষ্য, দেশে বহু অভিজ্ঞ ও দক্ষ সাংবাদিক থাকা সত্ত্বেও সীমিত কয়েকজন ব্যক্তিকেই ঘুরেফিরে সামনে আনা হয়েছে।
এছাড়া সম্মেলনের গঠন ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা দেখে অনেকেই এটিকে একটি “সিন্ডিকেটনির্ভর আয়োজন” বলেও অভিহিত করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
কয়েকজন সাংবাদিকের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্ত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক সাংবাদিককে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিবর্তে এনজিও-ঘনিষ্ঠ ও করপোরেটমুখী কিছু পরিচিত মুখকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমালোচনার আরেকটি বড় জায়গা হলো—বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে আয়োজিত এমন একটি সম্মেলনে সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত না করা।
অনেকের মতে, জবাবদিহিতার প্রশ্নে রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আলোচনায় তাদের অনুপস্থিতি আয়োজনটির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সাধারণত এ ধরনের কনফারেন্সে উন্মুক্তভাবে সেশন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধানী কাজ তুলে ধরার সুযোগ পান।
কিন্তু এবারের সম্মেলনে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির পছন্দ ও বলয়ের ভিত্তিতেই সেশন নির্বাচন করা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত।
অথচ সাংবাদিকতা বিষয়ে আলোচনার জন্য বিপুলসংখ্যক এনজিও-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে, যা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
একইসঙ্গে আলোচ্য বিষয় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
“Behind the Byline” কিংবা “Building Inclusive Culture within Newsrooms”-এর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মৌলিক সংকট—যেমন মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বাধা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ, কিংবা সংবাদপত্র শিল্পের কাঠামোগত সংকট—সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে, সাংবাদিকতা উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির নামে আয়োজিত এই সম্মেলনটি কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন দেশের অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী।















