ইব্রাহীম খলিল মামুন :: কক্সবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। জেলার একমাত্র সরকারি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ২০ শয্যার ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৮৭ শিশু।
রোগীর অতিরিক্ত চাপে অনেক সময় এই সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে কিংবা একই বেডে দুই থেকে চারজনকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এদিকে গত ৪০ দিনে জেলায় হাম ও হামজনিত জটিলতায় ১৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
সোমবার সরেজমিনে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়।
কোথাও বেডে গাদাগাদি করে শিশুদের চিকিৎসা চলছে, আবার কোথাও স্বজনের কোলেই দেওয়া হচ্ছে সেবা। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ছুটাছুটি আর শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
রামু থেকে আসা এক অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোগীর তুলনায় হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা খুবই কম। অক্সিজেন ও নেবুলাইজার মেশিনেরও সংকট রয়েছে।
বাধ্য হয়ে সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজ খরচে নেবুলাইজার কিনে আনতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এক দফা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরও শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।
আরেক অভিভাবক জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের সময় নার্সদের সহযোগিতা চাইলে অনেক ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারেরও শিকার হতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর স্বজন কায়সার হামিদ বলেন, শয্যা সংকট এতটাই প্রকট যে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর স্বজনদেরও ওয়ার্ডে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় করিডোর ও সিঁড়িতে গাদাগাদি করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ জন। বর্তমানে ২০ শয্যার বিপরীতে ৮৭ শিশু ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, এক শিফটে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দেওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ডা. শান্তনু ঘোষ আরও বলেন, স্থান সংকুলান না থাকায় অতিরিক্ত বেড স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে একই বেডে একাধিক শিশুকে রেখে কিংবা মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া গত ৪০ দিনে মারা গেছে ১৭ শিশু।














