শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনার বিভীষিকা থেকে মুক্তির আশায় চলছে প্রশস্তকরণ প্রকল্প

🗓 শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

👁️ ২ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

👁️ ২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে এবং দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও দ্রুত করতে শতকোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয়েছে মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি কক্সবাজারগামী পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিও অনেকাংশে লাঘব হবে।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সর্বশেষ গত ৯ মে সকাল সোয়া ১১টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় হোটেল ফোর সিজনের সামনে মারসা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত এবং আরও প্রায় ২৫ জন আহত হন।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের মতে, সরু সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপই দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।

বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রস্থ মাত্র ২১ ফুট। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এটিকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত উভয় পাশে ৬ থেকে ৭ ফুট করে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

এছাড়া দুর্ঘটনা প্রবণ বাঁকগুলো ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হবে।

চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার অংশে মাঝখানে ডিভাইডার রেখে ৪ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।এছাড়াও চকরিয়া থেকে কক্সবাজার টার্মিনাল পর্যন্ত দুর্ঘটনা প্রবণ বাঁকগুলো ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সরকার ১৪৮ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ধাপে ধাপে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে বাস মালিক, চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের অভিমত,বর্তমান প্রশস্তকরণ প্রকল্প সাময়িক স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ ৪ লেন কিংবা ৬ লেন মহাসড়কের বিকল্প নেই। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আধুনিক ও নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় ১৪৮ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হলেও এর বর্তমান অবস্থা নাজুক।

অধিকাংশ অংশ এখনও দুই লেনের সরু পথে সীমাবদ্ধ। সামান্য চাপেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ওভারটেকিং করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ।

বাঁক, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমুখী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

দেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দ্রুত আধুনিকায়ন করা গেলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর