কক্সবাংলা ডটকম(১৪ মে) :: চট্টগ্রাম শহরে সার্কিট হাউসের ঠিক পিছনে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের বিশাল ময়দানে তিল ধারণের জায়গা নেই। ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের উপস্থিতিতে বৃস্পতিবার নমাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হল প্রাক্তন মন্ত্রী ও নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের।
আওয়ামি লিগের পরিচিত নেতা-কর্মীরা দেশছাড়া হওয়ায় কেউ ছিলেন না এই জমাট জনতায়। যাঁরা দেশে রয়েছেন, হয় কারাগারে অথবা আত্মগোপনে। কারণ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সবার নামে গুচ্ছ গুচ্ছ খুনের মামলা। তার পরেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে স্লোগান চলল— ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘হাসিনার সরকার আমাদের দরকার’, ‘হাসিনা তুমি জেনে রাখো, রাজপথ ছাড়িনি’। স্থানীয় এক ছাত্রের কথায়, ‘ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের জানাজা তো নয়, যেন শেখ হাসিনার জনসভা হল চট্টগ্রামে।’
বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা, দীর্ঘ কাল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এমপি, প্রাক্তন মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের ভুয়ো মামলা দিয়ে যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইউনূসের পুলিশ, ৮১ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধ তখন নিজে ওষুধটুকুও খেতে পারেন না। গত অগস্টে ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়ায় মোশাররফ হোসেনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। আওয়ামি লিগ নেতাদের অভিযোগ, ইউনূস প্রশাসন জেলে পুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে এই জনপ্রিয় নেতাকে।
মোশাররফের সহযোগী কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, আওয়ামি লিগের এই নেতার জানাজায় জনবিস্ফোরণ ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল সরকারি মহলে। তাই মানুষের উপস্থিতি কমাতে নানা ধরনের গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। যেমন, নিষিদ্ধ দলের নেতার জানাজায় অংশ নিলে গ্রেপ্তার করা হবে, বা পুলিশ জানাজার অনুমতি দেয়নি, ইত্যাদি। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নমাজে আসা মানুষকে তল্লাশি করতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। নানা কায়দায় বাধা দিয়ে উপস্থিতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তার পরেও ঠেকানো যায়নি জনবিস্ফোরণ।
জানাজা শেষে প্রয়াত নেতার কফিন নিয়ে রওনা হওয়ার সময় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়। জনাজায় উপস্থিত হাজার-হাজার কণ্ঠ একযোগে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে বিদায় জানায়। জানাজার আগে প্রয়াত মোশাররফ হোসেনের কফিন জাতীয় পতাকায় ঢেকে গার্ড অব অনার দেয় স্থানীয় জেলা প্রশাসন। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন।
জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন, প্রাক্তন মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, কমিউনিস্ট পার্টি নেতা শাহ আলম, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমু-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষ।
জেলে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও উপস্থিত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান। তিনি বলেন ‘উনি আমার নেতা। তাই ভয় উপেক্ষা করেই এসেছি এখানে।’
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো।’ বুধবার ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।













