সরওয়ার কামাল মহেশখালী :: ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮ই জুন সকাল ১১টায় মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এ সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
অভিযানের আওতায় হাসপাতাল চত্বর, ব্লক হয়ে থাকা ড্রেন,আশপাশের ঝোপঝাড়,পরিত্যক্ত স্থান এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলসমূহ পরিষ্কার করা হয়।
একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ,পরিত্যক্ত পাত্র ও আবর্জনা সরিয়ে ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান,ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বিস্তার রোধে সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়।
সচেতনতামূলক প্রচারণায় জানানো হয়, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে জন্মায় এবং অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও মশার বংশবিস্তারের জন্য যথেষ্ট।
ফলে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, পানির ট্যাংক, ড্রাম, ফ্রিজের ট্রে, নারিকেলের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার জন্য সকলকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক প্রচার এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে মহেশখালীতেও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।














