কক্সবাংলা ডটকম(২৬ জুন) :: বাংলাদেশ ও চীন ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) বাস্তবায়ন, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।
একই সঙ্গে নিজেদের বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করে ‘নতুন যুগে যৌথ ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ইশতাহারে এ তথ্য জানানো হয়।
ইশতাহারে বলা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার হয়েছে।
চীন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ নীতির প্রশংসা করেছে বেইজিং।
অন্যদিকে বাংলাদেশ মনে করে, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে সম্ভাব্য ‘২+২ সংলাপ’ শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছে।
যৌথ ঘোষণায় উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকেন্দ্রিক যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। অপরদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বিআরআই-এর আওতায় উন্নয়ন পরিকল্পনার সমন্বয়, অগ্রাধিকারভিত্তিক বড় প্রকল্পের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে চীন।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ই-কমার্স ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশকে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে চীনের শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, ফটোভোলটাইক প্রযুক্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণেও সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস, নদী খনন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে দুই দেশ।
একই সঙ্গে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীন তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করবে এবং প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
প্রতিরক্ষা খাতে প্রশিক্ষণ, সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ‘চীন-বাংলাদেশ জনগণে-জনগণে বিনিময় বর্ষ’ সফলভাবে উদযাপনের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম, শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব ও ক্রীড়া খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্যসেবা, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা, কৃষি, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন।
একই সঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার হওয়ার আবেদনের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং।
রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় তারা গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ।
যৌথ ইশতাহারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।















