রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি রোমান্সের অবসান : ভারত নীতির নীরব কিন্তু মৌলিক পরিবর্তন আমেরিকার

🗓 রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ জুলাই) :: ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ভারত আর এমন কোনো কৌশলগত অংশীদার নয়, যাকে উন্নীত করা উচিত; বরং এটি এখন একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, যার উত্থানকে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে। বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের আশপাশের পুরো অঞ্চলে এখন মার্কিন নীতি ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতেও দ্বিধা করছে না।

গত ১৮ জুলাই ২০২৬ ইং এই বিষয়টি নিয়ে ভারতের ওপেন ম্যাগাজিনে একটি আর্টিকেল লিখেছেন ভূ-কৌশলবিদ ব্রহ্মা চেলানি। আর্টিকেলটি কক্সবাংলা’র পাঠকদের জন্য হুবহু অনুবাদ করে তুলে ধরা হলো।

আমেরিকার ভারত নীতির নীরব কিন্তু মৌলিক পরিবর্তন

বৃহৎ কৌশলগত নীতিগুলো প্রায়ই প্রকাশ্যে ঘোষণার অনেক আগেই নীরব নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। বর্তমানে আমেরিকার ভারত নীতির ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটছে। নীরবে কিন্তু মৌলিকভাবে ওয়াশিংটন তার ভারত-নীতি পুনর্লিখন করছে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে, গণতান্ত্রিক ও উত্থানশীল ভারতকে ওয়াশিংটন একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে দেখেছে—একটি সম্প্রসারণবাদী চীনের বিপরীতে অর্থনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে। পরপর কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, যা মার্কিন দ্বিদলীয় পররাষ্ট্রনীতির বিরল একটি স্তম্ভে পরিণত হয়েছিল।

কিন্তু ভারত-আমেরিকা অংশীদারিত্বকে ঘিরে যে কৌশলগত রোমান্টিসিজম ছিল, তা এখন অতীত। ওয়াশিংটন তার ভারত-নীতির খাতা নতুন করে লিখছে। এই পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য হলো চাপপ্রয়োগমূলক কূটনীতি, পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন ঝোঁকের পুনরুত্থান এবং বেইজিংয়ের প্রতি কাঠামোগত সমন্বয়। আমেরিকার কৌশলগত পরিকল্পনায় ভারতের ভূমিকা ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে শুরু করেছে।

এই শতাব্দীতে ধারাবাহিক সরকারগুলোর অধীনে নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। তাদের বিশ্বাস ছিল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উত্থানকে ত্বরান্বিত করবে এবং ভারতের নিজস্ব অঞ্চলে তার উদ্বেগগুলোর প্রতি আমেরিকাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলবে।

ভারত এখনও এই সম্পর্ককে তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, চীনের উত্থান নিয়ন্ত্রণ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মিল রয়েছে। ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেক এবং নামমাত্র হিসাবে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি উৎপাদন হয় এই অঞ্চলে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। ভারতের বিশাল আকার, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও জ্বালানি রুটের ওপর ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা এবং মহাকাশ ও বিজ্ঞান খাতে সাফল্য—এসবই এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে দেশটিকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে এসেছে। যখন অনেক বড় অর্থনীতি ধীরগতির মুখে, তখন ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান বাজার হিসেবে মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র।

বিল ক্লিনটনের সময় থেকে শুরু করে ধারাবাহিক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ভারতে সফর করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশে ভাষণ দেন, যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নজিরবিহীন ছিল।

তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল নীতিগত দিক। ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের কেন্দ্রে স্থান দেয়, চীনকে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ঘোষণা করে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সহায়তা কমিয়ে দেয়।

কিন্তু জানুয়ারি ২০২৫-এ ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন পথে এগোয়। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, তিনি আগের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “মে ২০২৫ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা পর্যবেক্ষকদের মতে এই অংশীদারিত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।”

এ পরিবর্তনের সঙ্গে একই সময়ে চীনের প্রতি ট্রাম্পের তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান এবং পাকিস্তানের প্রতি নতুন আগ্রহ দেখা যায়—যা তার প্রথম মেয়াদের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

The End of a Romance: Washington is rewriting its India playbook

পর্ব ২

ট্রাম্পের প্রকাশ্য অপমানজনক মন্তব্য ও শুল্ককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কারণে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে—এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার আগেই এই সম্পর্ক চাপের মুখে পড়তে শুরু করেছিল।

প্রথম ফাটল দেখা দেয় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দেশটিকে পাকিস্তান-সমর্থিত তালেবানের হাতে ছেড়ে দেওয়া এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রক্সি যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করে।

ভারত, ইসরায়েল ও তুরস্কের মতো অন্যান্য মার্কিন অংশীদারদের মতোই ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক ও লিবিয়া আক্রমণের সময়ও ভারত একই অবস্থান নিয়েছিল। তবুও ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বাইডেনের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ব্রায়ান ডিজ সতর্ক করে বলেছিলেন, ভারতের এই নিরপেক্ষতার “খরচ ও পরিণতি” হবে “গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি”।

ইউক্রেন প্রশ্নে ভারতের নিরপেক্ষতা ছিল দুই দেশের মধ্যে একাধিক বিরোধের সূচনা মাত্র। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে আরও বেশি অস্ত্র বিক্রি করে, যেমন ২০২৪ সালে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের ড্রোন চুক্তি, তবুও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একসময়ের বিকাশমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুর্বল হয়ে পড়ছে।

দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রকাশ্যে আসে যখন ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রকাশ্যে “মার্কিন ডিপ স্টেট”-এর বিরুদ্ধে “মিথ্যা বর্ণনা” ব্যবহার করে ভারত ও তার ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালের ভারতের দীর্ঘ জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মার্কিন কিছু মন্তব্য, যা ভারতীয় বিরোধী দলগুলোর অবস্থানের প্রতিধ্বনি করেছিল, বিজেপির কাছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক অনুশীলনে অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাইডেন মোদির প্রশংসা করলেও, তিনি এবং অনেক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি তাদের বিরূপ মনোভাব গোপন করেননি।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি মোদির পুনর্নির্বাচনের পর বাইডেন প্রশাসনের শেষ কয়েক মাসে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত-ঘনিষ্ঠ সরকারের সহিংস পতনের প্রতি মার্কিন সমর্থন, যা ভারতে অনেকের কাছে মার্কিন-সমর্থিত “কালার রেভল্যুশন” হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর বাংলাদেশে ইসলামপন্থী সহিংসতার বিস্তার ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, কারণ ভারতে ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ অনথিভুক্ত বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু পদক্ষেপ ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অপসারণের পর পাকিস্তানের সামরিক-সমর্থিত সরকারকে সমর্থন করার পাশাপাশি, ওয়াশিংটন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বিদ্রোহীদের “অপ্রাণঘাতী” সামরিক সহায়তা দেয়। এসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সীমান্তপারের অস্ত্র পাচার ভারতের মণিপুরে জাতিগত সংঘাতকে উসকে দেয়।

দুটি মার্কিন অভিযোগপত্র পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও গভীর করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কভিত্তিক খালিস্তানপন্থী কর্মী গুরপতওয়ন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার একটি ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র একজন সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে। পান্নুন ভারতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত।

কয়েক সপ্তাহ পরে পান্নুন প্রকাশ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে সতর্ক করেন এবং হুমকি দেন যে তিনি বিশ্বের কোথাও এয়ার ইন্ডিয়াকে পরিচালনা করতে দেবেন না।

পান্নুন ইস্যুর এক বছর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ করেন যে ২০২৩ সালে নিহত খালিস্তানপন্থী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতীয় কর্মকর্তাদের “সম্ভাব্য সম্পর্ক” রয়েছে। ভারত নিজ্জরকেও সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন বাইডেনের নিজ শহর উইলমিংটনে অনুষ্ঠিত কোয়াড সম্মেলনে মোদির আগমনের কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউস খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং তাদের ব্রিফিং দেয়। এতে কৌশলগত আস্থার মারাত্মক ক্ষতি হয়।

পান্নুন মামলার কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি, আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ আনে। নয়াদিল্লিতে অনেকেই এটিকে পরোক্ষভাবে মোদিকে আঘাত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন, কারণ আদানি ভারতের অবকাঠামোগত উত্থানের অন্যতম প্রতীক এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

আদানি ও পান্নুন—এই দুটি ঘটনাই ভারতে এমন ধারণাকে শক্তিশালী করে যে বাইডেন আমলে মার্কিন বিচারব্যবস্থা ক্রমশ পররাষ্ট্রনীতির একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই টানাপোড়েন নয়াদিল্লিকে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভব করায়। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের অক্টোবরে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের একটি সমঝোতা তৈরিতেও এটি ভূমিকা রাখে।

ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তার প্রথম মেয়াদের “সোনালি দিন” ফিরে আসবে—এমন আশা দ্রুত ভেঙে যায়। বরং তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

এই অবনতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০২৫ সালের মে মাসে “অপারেশন সিন্দুর”-এর সময়। পাকিস্তান-সমর্থিত এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতের সীমিত সামরিক অভিযানের সময় ট্রাম্প দাবি করেন যে তিনি চাপ প্রয়োগ করে মাত্র সাড়ে তিন দিনের মধ্যে ভারতকে পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করতে বাধ্য করেছেন।

সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি অংশীদারকে সমর্থন করার পরিবর্তে এই হস্তক্ষেপ পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করেছে।

পাকিস্তান এখনও জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত বহু সন্ত্রাসী সংগঠনের কেন্দ্রস্থল। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন নরম মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যদিও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোদির হোয়াইট হাউস সফর নিয়ে ভারতে যে উচ্ছ্বাস ছিল, তা এই ইঙ্গিতগুলোকে আড়াল করে দেয়।

একই মাসে ট্রাম্প বৈশ্বিক সাহায্য কর্মসূচি স্থগিত করলেও পাকিস্তানের জন্য ৩৯৭ মিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা ব্যতিক্রম হিসেবে বহাল রাখেন। মার্চে কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি পাকিস্তানের প্রশংসা করেন এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতার জন্য। এরপর এপ্রিল ২০২৫-এ পাকিস্তান ও ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের মধ্যে বিনিয়োগ চুক্তি হয়। এমনকি ৩৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময়ও পাকিস্তানকে বাদ রাখা হয়।

US President Donald Trump and Prime Minister Narendra Modi at the ‘Namaste Trump’ rally, Ahmedabad, February 24, 2020 (Photo: AFP)

পর্ব ৩

ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার পুরোনো কৌশল আবারও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহরের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সচেতনভাবেই পাকিস্তানকে ভারতের আঞ্চলিক প্রাধান্য ঠেকানোর একটি ভারসাম্যকারী শক্তি হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করছে। উল্লেখ্য, এফ-১৬ পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র বহনের অন্যতম মাধ্যমও।

অতএব, ‘অপারেশন সিন্দুর’ মূলত নিশ্চিত করেছে যে পাকিস্তানের প্রতি শীতল যুদ্ধকালীন মার্কিন ঝোঁক আবারও ফিরে এসেছে—যে ঝোঁকের শিকড় ১৯৭১ সালে, যখন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যার ব্যাপারে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেছিল।

আমেরিকার এশিয়া কৌশলে ভারতের কৌশলগত অবনমন

আমেরিকার এশিয়া কৌশলে ভারতের মর্যাদা হ্রাসের সবচেয়ে গভীর ইঙ্গিতটি ধারণাগত। সম্প্রতি পেন্টাগন “ইন্দো-প্যাসিফিক” শব্দবন্ধ থেকে “ইন্দো” অংশটি বাদ দিয়েছে। এর মাধ্যমে গত এক দশকের মূল্যবোধভিত্তিক জোট গঠনের কৌশল থেকে সরে এসে একটি আরও সংকীর্ণ ও স্পষ্টতই লেনদেনভিত্তিক কাঠামোর দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারতের প্রতি এই শীতল ও লেনদেনভিত্তিক মনোভাব ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও স্পষ্ট। ২০১৭ সালের কৌশলপত্রের বিপরীতে এতে ভারত বা কোয়াডের উল্লেখ প্রায় নেই বললেই চলে। নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল “বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের” সীমিত পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের মন্তব্য। ২০২৫ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ওয়াশিংটন চীনের ক্ষেত্রে যে ভুল করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তা আর করবে না। অর্থাৎ, ভারতকে অবাধে বিকশিত হতে দিয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে টেক্কা দেওয়ার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, ল্যান্ডাউ বলেন:

“ভারতের বোঝা উচিত, ২০ বছর আগে চীনের ক্ষেত্রে আমরা যে ভুল করেছিলাম, ভারতের ক্ষেত্রেও তা করব না। আমরা আর এমন অবস্থান নেব না যে, ‘আমরা তোমাদের সব বাজার গড়ে তুলতে দেব’, তারপর একদিন দেখব তোমরাই আমাদের অনেক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে হারিয়ে দিচ্ছ।”

দুই দশক ধরে ওয়াশিংটনের প্রধান ধারণা ছিল, একটি উত্থানশীল গণতান্ত্রিক ভারত মুক্ত বিশ্বের জন্য ইতিবাচক শক্তি এবং ক্রমশ স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠা চীনের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্যকারী শক্তি। ল্যান্ডাউয়ের মন্তব্য সেই ধারণার মৃত্যু ঘটিয়েছে।

এখন ওয়াশিংটনের কাছে চীনের উত্থান, যা একসময় মার্কিন সহায়তায় সম্ভব হয়েছিল, একটি কৌশলগত ভুল হিসেবে বিবেচিত। তাদের ধারণা, চীনের উত্থান আমেরিকার শিল্পভিত্তিকে দুর্বল করেছে। ফলে একই ভুল ভারতের ক্ষেত্রে তারা পুনরাবৃত্তি করতে চায় না।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ভারত আর এমন কৌশলগত অংশীদার নয়, যাকে উন্নীত করা প্রয়োজন। বরং এটি এখন একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, যার উত্থানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে।

এই কঠোর মনোভাব কেবল বাণিজ্য বা অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের চারপাশের অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দ্বিধা করছে না।

অর্থাৎ, “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি এখন বন্ধু ও প্রতিপক্ষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

আগে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য ভারতের উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখত। এখন তাদের লক্ষ্য হলো ভারতের উত্থানকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে ভারত আরেকটি চীনে পরিণত না হয়।

ভারতকে তারা মার্কিন অস্ত্র, জ্বালানি, ইলেকট্রনিক পণ্য, ভোক্তা সামগ্রী ও কৃষিপণ্যের একটি বড় বাজার হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু একই সঙ্গে শুল্ক, প্রযুক্তি হস্তান্তরের সীমাবদ্ধতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য নীতি এবং সরাসরি ভূরাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীন শক্তি হিসেবে আবির্ভাবকে সীমিত রাখতে চায়।

“অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ”—বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র ও বৃহত্তম গণতন্ত্রের অংশীদারিত্ব—এই ধারণাটি একসময় সম্পর্ক গড়ে তুলতে কার্যকর ছিল। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মূল্যবোধভিত্তিক কূটনীতিতে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।

US-India Relations in a Downward Spiral - 30.11.2024, Sputnik India

প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে আস্থার সংকট

ভারত দীর্ঘদিন ধরে ধরে নিয়েছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিশ্চিত হবে। কিন্তু সেই ধারণা এখন ভেঙে পড়ছে।

প্রতিরক্ষা শিল্প খাতেই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) অ্যারোস্পেস চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান কর্মসূচিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেজস এমকে-১এ, তেজস এমকে-২ এবং অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) প্রকল্পগুলোতে বড় ধরনের বিলম্ব সৃষ্টি হয়েছে।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) প্রায় ৩০টি নতুন তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান তৈরি ও পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করলেও সেগুলো ইঞ্জিনের অভাবে রানওয়েতে পড়ে আছে।

ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনীকে সীমান্তে নিয়মিত টহল মিশনের জন্য তুলনামূলক ভারী ও ব্যয়বহুল সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বিমানগুলোর কার্যক্ষমতা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিদ্রূপাত্মক বিষয় হলো, যখন মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে ভারতের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে, তখন একই সময়ে ওয়াশিংটন পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে আধুনিকায়ন করেছে, যা ভারতের বিরুদ্ধে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।

একটি সম্পূর্ণ লেনদেনভিত্তিক ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”—বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি—আর গ্রহণযোগ্য কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয় না।

বরং তারা এটিকে এমন একটি যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে ভারতকে একটি বিশাল বাজার হিসেবে দেখা যায়—যেখানে গভীরভাবে প্রবেশ করা যাবে, কিন্তু যার উত্থানকে উৎসাহিত করা হবে না।

এই পরিবর্তন তাই কেবল আবেগ বা রোমান্টিসিজমের অবসান নয়; এটি একটি মৌলিক কৌশলগত পরিবর্তন।

পর্ব ৪

“ইন্দো-প্যাসিফিক” থেকে “ইন্দো” শব্দটি বাদ দেওয়া এবং নয়াদিল্লির প্রতি স্পষ্ট লেনদেনভিত্তিক মনোভাব গ্রহণের মাধ্যমে ওয়াশিংটন একটি বার্তা দিচ্ছে—চীনকে ব্যস্ত রাখার জন্য ভারতের প্রয়োজন আছে, কিন্তু ভারতকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে দেওয়া হবে না।

এ কারণেই ওয়াশিংটন পদ্ধতিগতভাবে কোয়াডকে (Quad) অগ্রাধিকারহীন করে তুলেছে। এর পরিবর্তে তারা “স্কোয়াড” (Squad)-এর মতো নতুন বহুপাক্ষিক জোটকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই জোটে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইন রয়েছে, যারা সবাই আনুষ্ঠানিক সামরিক মিত্র এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ে একমত।

কোয়াড গঠিত হয়েছিল চীনের সম্প্রসারণবাদ ঠেকানোর কৌশলগত প্রতিরোধক হিসেবে। কিন্তু ট্রাম্প যখন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পথে এগোতে শুরু করেন—যার প্রতীক ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে তার বেইজিং সফর—তখন আমেরিকার বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল কার্যত বিসর্জন দেওয়া হয়।

সবচেয়ে কঠোর বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে ভারতের অবস্থান “ইন্দো-প্যাসিফিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু” থেকে নেমে এসে “দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলের একটি স্থানীয় শক্তি”-তে পরিণত হয়েছে।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রবর্তিত এবং ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সমর্থিত “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” কাঠামোর অধীনে ভারতকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং চীনের বিরুদ্ধে একটি অপরিহার্য ভারসাম্যকারী শক্তি হিসেবে দেখা হতো।

কিন্তু “ইন্দো” শব্দটি বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা কমিয়ে আনা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শাংরি-লা সংলাপে বলেন, ওয়াশিংটন এখন ভারতকে এমন একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে দেখে, যা “নিজস্ব স্বার্থে কাজ করছে” এবং দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরে স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখছে।

অন্য কথায়, ভারত আর বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের কেন্দ্র নয়; বরং উপমহাদেশ ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে সীমাবদ্ধ একটি আঞ্চলিক শক্তি।

প্রায় এক দশক ধরে নয়াদিল্লি “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” ধারণাকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে তার আঞ্চলিক ‘রেড লাইন’গুলোর প্রতি সম্মান আদায় করেছিল। এর মধ্যে ছিল পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করা পর্যন্ত পাশে না দাঁড়ানোর নীতি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যখন নীরবে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ভেঙে ফেলছে, তখন সেই সংবেদনশীলতা দেখানোর বাধ্যবাধকতাও তার আর নেই।

গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটন ভারতের আশপাশে এমন নীতি অনুসরণ করছে, যা ভারতের মৌলিক স্বার্থের বিপরীত।

এরও বেশি, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আবার “পিভট স্টেট” হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং একটি মার্কিন-চীন “জি-২” (G2) ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যেখানে দুই পরাশক্তি মিলে বৈশ্বিক ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। গত শরৎকাল থেকে ট্রাম্প বারবার “জি-২” ধারণার উল্লেখ করে আসছেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০২৫ সালে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেন, থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর গুলিতে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনা—সবই সম্পর্কের অবনতির প্রতীক।

এটি আরও বিদ্রূপাত্মক কারণ, ২০১৬ সালের লজিস্টিক্স এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অব এগ্রিমেন্ট (LEMOA)-এর আওতায় ভারতীয় বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী শান্তিকালীন লজিস্টিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

এদিকে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির ওপর চাপ দিচ্ছে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে, যা ভারতীয় বাজারকে আরও বেশি মার্কিন পণ্যের জন্য উন্মুক্ত করবে। অথচ একই সময়ে মার্কিন নীতিই ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করছে।

ফলে ভারতের সামনে বিকল্প খুব কম। তাকে আত্মনির্ভরতা বাড়াতে হবে এবং বিকল্প অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।

Donald Trump, Pakistan Prime Minister Shehbaz Sharif and Army Chief Asim Munir in the White House

ভারতের প্রতিবেশে মার্কিন-ভারত স্বার্থের সংঘাত

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর বারবার বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রধান আঞ্চলিক লক্ষ্য হলো উপমহাদেশে কোনো একক শক্তিকে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে না দেওয়া।

ভারতের অনেকের মতে, এটি চীনের সেই কৌশলেরই প্রতিধ্বনি, যার উদ্দেশ্য ভারতকে সীমাবদ্ধ রাখা।

এটি “অফশোর ব্যালান্সিং”-এর পাঠ্যপুস্তকীয় সংজ্ঞার সঙ্গেও মিলে যায়—অর্থাৎ, একটি পরাশক্তি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর উত্থান ঠেকাতে স্থানীয় শক্তি ও প্রক্সি ব্যবহার করবে।

নেপাল, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান—ভারতের পুরো প্রতিবেশী অঞ্চলেই এখন মার্কিন ও ভারতীয় স্বার্থ দ্রুত ভিন্নমুখী হয়ে উঠছে।

এখানে একটি বড় বৈপরীত্য রয়েছে। দুই দেশ বৈশ্বিক অংশীদার হলেও ভারতের নিজস্ব কৌশলগত পরিসরে তাদের স্বার্থের সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে।

এতে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে—যদি যুক্তরাষ্ট্র ভারতের মৌলিক আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধেই কাজ করে, তাহলে তাকে প্রকৃত অর্থে কিভাবে ভারতের বৈশ্বিক অংশীদার বলা যায়?

ভারতের নিজস্ব আঙিনায় এখন ওয়াশিংটন কেবল বেইজিংয়েরই নয়, ক্রমশ নয়াদিল্লিরও প্রতিদ্বন্দ্বী ভারসাম্যকারী শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ নেপাল। প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত, গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং লাখো মানুষের যাতায়াতের কারণে নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নিরাপত্তা হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন নেপালকে ভারতের নীতির একটি উপাংশ হিসেবে নয়, বরং স্বতন্ত্র অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। কাঠমান্ডুতে মার্কিন উচ্চপর্যায়ের সফর বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা নয়াদিল্লিকে পাশ কাটিয়ে হচ্ছে।

ফলে ভারতের চারপাশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পাশাপাশি এখন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ছায়াও যুক্ত হয়েছে।

(পর্ব ৫ — সমাপনী অংশ)

ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে একটি বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ উপমহাদেশীয় ব্যবস্থা তার স্বার্থের জন্য বেশি উপযোগী। এটি উদীয়মান শক্তিগুলোকে ভারসাম্যের মধ্যে রাখার বৃহত্তর মার্কিন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে যেসব দেশকে ভারত ঐতিহ্যগতভাবে তার প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখেছে, সেসব দেশেও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব প্রভাব ও অবস্থান তৈরি করছে।

এই যুক্তিই ব্যাখ্যা করে কেন ওয়াশিংটন ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সমর্থন করেছিল, যদিও নয়াদিল্লি মনে করেছিল যে এটি ভারতের পূর্ব সীমান্তের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশের দীর্ঘ ও সহজপ্রবেশ্য সীমান্তের কারণে ভারত এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।

বাংলাদেশে পরবর্তীকালে ইসলামপন্থী সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন—যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়—গণতান্ত্রিক বৈধতার অনেক মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে লেখকের দাবি। তবুও ওয়াশিংটন এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রহের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা ইসলামাবাদের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি করার সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা অনেকের মতে কার্যত একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থানের সমতুল্য।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা এমন এক কৌশলগত বাস্তবতা ফিরিয়ে আনছে, যা ভারত মনে করেছিল অতীত হয়ে গেছে।

মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটন আবারও শীতল যুদ্ধকালীন ক্ষমতার ভারসাম্য নীতি ফিরিয়ে আনছে এবং পাকিস্তানকে ভারতের বিপরীতে একটি আঞ্চলিক ভারসাম্যকারী শক্তি হিসেবে পুনরায় মূল্যায়ন করছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণও সেই নীতির অংশ।

এই পদক্ষেপ অনেক ভারতীয়ের কাছে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে শক্তিশালী করেছিল এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রাথমিক বিকাশে সমর্থন দিয়েছিল।

পাকিস্তানকে দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা করতেও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫৮ সাল থেকে আইএমএফের মাধ্যমে পাকিস্তান ২৫ বার সহায়তা পেয়েছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ৭ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচিসহ এটি বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমর্থনেই পাকিস্তান ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর “গ্রে লিস্ট” থেকেও বেরিয়ে আসে।

ফলে মার্কিন নীতিতে পাকিস্তানের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। এমনকি সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করেছে।

একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের কিছু অংশ আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে শুরু করেছে, বিশেষত তথাকথিত “ট্র্যাক-টু” সংলাপ উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে।

চীনের প্রতি ট্রাম্পের নরম অবস্থান

২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্প্রসারণবাদী চীনের মোকাবিলায় মিত্র ও অংশীদারদের সহায়তায় যে মার্কিন কৌশল গড়ে উঠেছিল, ট্রাম্প অনেকাংশে সেখান থেকে সরে এসেছেন।

বরং তার “মার্কিন-চীন জি-২” ধারণা পেন্টাগনের “ইন্দো-প্যাসিফিক” নাম পরিবর্তন করে “প্যাসিফিক” করার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হয়। “প্যাসিফিক” শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের পছন্দের ছিল, ফলে এটি চীনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি একটি বড় ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

“ইন্দো” অংশটি বাদ দেওয়ার ফলে ভারতকে মূল সমীকরণ থেকে আংশিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সঙ্গে আরও সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—যা ট্রাম্প ও শি জিনপিং উভয়ের জন্যই বেশি স্বস্তিকর।

আজকের ওয়াশিংটন আর নিজেকে একটি বিশাল গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে না। বরং তারা চীনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার একটি সীমিত কাঠামো মেনে নিতে প্রস্তুত।

Japanese Prime Minister Sanae Takaichi and Modi at the 16th India-Japan Annual Summit, New Delhi, July 2, 2026 (Photo: ANI)

ভারতের জন্য নতুন বাস্তবতা

যে সময়ে ভারত ধরে নিতে পারত যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উত্থানকে ত্বরান্বিত করবে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার প্রভাব বাড়াবে—সেই সময় স্পষ্টতই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের উত্থানকে এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখার পরিবর্তে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যাতে ভারত আরেকটি বড় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত না হয়।

সংক্ষেপে, ওয়াশিংটন একটি উত্থানশীল ভারতের প্রতি তার পূর্বের সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি পরিত্যাগ করছে।

নয়াদিল্লির জন্য এর অর্থ হলো—তাদের কৌশলগত চিন্তাধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে এবং মার্কিন কৌশলে নিজেদের কমে যাওয়া গুরুত্বের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

যদি ভারতের দৃষ্টিতে মার্কিন নীতিগুলো তার নিজস্ব প্রতিবেশে ভারতের অবস্থানকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল করতে থাকে, তাহলে এশিয়ার ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের করণীয়

নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারতের জরুরি ভিত্তিতে তার ভূরাজনৈতিক অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়াতে হবে এবং আত্মনির্ভরতা জোরদার করতে হবে।

ভারতের প্রতিবেশে তার প্রভাব ভবিষ্যতে নির্ভর করবে—

  • ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা,
  • প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা,
  • এবং এমন বাস্তব সুবিধা প্রদানের সক্ষমতার ওপর, যা এসব দেশ আকর্ষণীয় বলে মনে করবে।

এটিই হবে ভারতের আশপাশে বিস্তৃত মার্কিন ও চীনা কৌশলগত প্রভাবের মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমমনা জোটও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততা ভারতের বৃহত্তর কৌশলগত ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারে।

বর্তমানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ ওয়াশিংটন বা বেইজিং—কোনো এক পক্ষকে বেছে নেওয়ার পরিবর্তে বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান তাকে একটি আকর্ষণীয় অংশীদারে পরিণত করেছে।

মোদির সাম্প্রতিক ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর—যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে—এ ধরনের চাহিদারই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ভারত জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপান পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য, অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি এবং ভারতই একমাত্র দেশ, যা চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত পরিসরে ভারসাম্য সৃষ্টি করতে সক্ষম।

কোনো মার্কিন-চীন “জি-২” ব্যবস্থাই এই বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতার বিকল্প হতে পারে না।

উপসংহার

ওয়াশিংটনের ভারত-নীতি বদলে গেছে, এবং দুই দেশের সম্পর্ককে ঘিরে যে কৌশলগত রোমান্টিসিজম ছিল, তার কার্যত অবসান ঘটেছে।

ফলে একটি বাস্তববাদী ভারতের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে আর স্বয়ংক্রিয় মিত্র হিসেবে না দেখে, বরং একটি শক্তিশালী কিন্তু সম্পূর্ণ লেনদেনভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা—যাকে বহুমেরু এশিয়ার অন্যান্য পরিবর্তনশীল শক্তির মতোই সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

US President Donald Trump has damaged relationship with India over the last  few months, growing calls from within US against Trump's decisions

— সমাপ্ত —

Brahma Chellaney

লেখক- ব্রহ্মা চেলানি

ব্রহ্মা চেলানি একজন ভূ-কৌশলবিদ (জিওস্ট্র্যাটেজিস্ট) এবং পানি বিষয়ক দুটি পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থের লেখক। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই দুটি হলো— “ওয়াটার, পিস অ্যান্ড ওয়ার” (Water, Peace, and War) এবং “ওয়াটার: এশিয়ার নিউ ব্যাটলগ্রাউন্ড” (Water: Asia’s New Battleground)।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর