রবিবার ৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

🗓 রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

হেলাল উদ্দিন,টেকনাফ :: কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে তিন বাংলাদেশি জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করার অভিযোগ তুলে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন—টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিন (৩০) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (২৭)।

তাঁদের সঙ্গে থাকা অপর কিশোর জেলের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিন জেলে নাফ নদে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যান।

পরে বিষয়টি স্থানীয় জেলে ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জানাজানি হয়।

তিনি বলেন, নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া এখন জেলেদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেলেদের মধ্যে নিয়মিত আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর আগেও নাইক্ষ্যংদিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে কয়েক দফায় বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের মার্চেও শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে তিনটি নৌকাসহ ১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝি একই এলাকা থেকে আরও চার জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জেলেরা জানান, সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় নাফ নদীর মোহনা দিয়ে টেকনাফে ফিরতে হয় তাদের।

কিন্তু নদীর মোহনা ও সীমান্তবর্তী জলসীমায় কোথায় বাংলাদেশ ও কোথায় মিয়ানমারের জলসীমা—এ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়। স্রোত ও আবহাওয়ার কারণে নৌকা কিছুটা সরে গেলেই তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্তের ওপারে চলে যেতে পারেন বলে দাবি স্থানীয় জেলেদের।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, তিন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি যাচাই করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জেলেদের অবস্থান ও তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে এ ধরনের ঘটনায় বারবার আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ২০২৫ সালেও নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ফলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত জলসীমায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

সীমান্তবর্তী জেলেদের দাবি, নাফ নদ ও সাগরে নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো এবং জেলেদের নির্দিষ্ট জলসীমা সম্পর্কে আরও কার্যকরভাবে সতর্ক করা প্রয়োজন।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর