রবিবার ৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে মন্দির সেবায়েত নয়ন সাধু হত্যার প্রধান আসামি ‘এক পিচ্ছা’ আব্দুর রহিম গ্রেপ্তার

🗓 রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে আলোচিত শ্রী শ্রী সর্বজনীন শিব-কালী মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধু হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রহিম ওরফে ‘এক পিচ্ছা’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) খুরুশকুল ইউনিয়নের হামজার ডেইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কক্সবাজার জেলা আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরবর্তী সময়ে পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের আওতায় আসে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল।

এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রহিম হামজার ডেইল এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। শুক্রবার সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি খুরুশকুলের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার শ্রী শ্রী সর্বজনীন শিব-কালী মন্দির থেকে সেবায়েত নয়ন দাশকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর মন্দিরে ফিরে আসেননি। তার স্ত্রী অঞ্জনা শীল বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজের তিন দিন পর ২২ এপ্রিল খুরুশকুলের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড়ি জঙ্গল থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়ন সাধুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তার মরদেহে পচন ধরেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে তদন্ত চলছিল। তবে তাকে রাতের বেলা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

নয়ন দাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার গোপাল দাশের ছেলে। তিনি খুরুশকুলের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার শিব-কালী মন্দিরে সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং মন্দিরের পাশেই বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্র ও পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনার পর ২৪ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী অঞ্জনা শীল বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারাও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছিলেন।

নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি আব্দুর রহিম গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। তবে হত্যার মূল কারণ, ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে—এসব বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও আদালতীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর