কক্সবাংলা ডটকম :: দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর শর্তে ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসি।
ওই পোস্টে ট্রাম্প জানান, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার শর্তে তিনি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এ চুক্তির প্রাথমিক শর্ত হিসেবে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার পরই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছিল, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানে কঠোর সামরিক হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন।
তবে এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পরিস্থিতি জটিল করার জন্য দায়ী করে তেহরান। সেইসঙ্গে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনকে সহায়তা করা যেকোনো আঞ্চলিক দেশ যুদ্ধের আগুনে ছাই হবে।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প আরো লেখেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেখা যায়নি—এমন পর্যায়ের সামরিক শক্তি ও ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের পক্ষ থেকে চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানোর পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন।
একইসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং চুক্তির একটি প্রাথমিক খসড়া নির্ধারিত হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন সরকার।
শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা বার্তায় সম্ভাব্য বিমান ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করছিল।
শুক্রবারের এক ক্যাবিনেট বৈঠকেও ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানব। এক পর্যায়ে তারা বলতে বাধ্য হবে, তারা আর সহ্য করতে পারছে না।
তবে ট্রাম্পের এ প্রস্তাবিত হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।














