শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট লঞ্চ করে ইতিহাস গড়ল ইসরো

🗓 শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো আবারও বড় সাফল্য পেয়েছে।

শুক্রবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেট সফলভাবে ইওএস-০৫ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সংস্থাটি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শুরু হওয়া উৎক্ষেপণের মাত্র ১৯ মিনিটের মধ্যে রকেটটি নির্ধারিত পথে স্যাটেলাইটকে পৌঁছে দেয়।

২ হাজার ৩৭৬ কেজি ওজনের ইওএস-০৫ এখন সুস্থ রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটিকে চূড়ান্ত জিওস্টেশনারি কক্ষপথে স্থাপন করা হবে।

ইসরোর কর্মকর্তারা বলছেন, এই মিশনের গুরুত্ব শুধু আরেকটি সফল উৎক্ষেপণে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ব্যর্থতার পর এটি ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে।

ইসরোর দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য রকেট পিএসএলভির পরপর ব্যর্থতার কারণে সংস্থাটিকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের শুরুতে পিএসএলভির ব্যর্থতার পর কারণ অনুসন্ধান ও সংশোধনমূলক পরীক্ষা চলছে। এ অবস্থায় জিএসএলভি এমকে-২-এর ওপর বাড়তি গুরুত্ব পড়ে।

‘নটি বয়’ থেকে সাফল্যের প্রতীক

জিএসএলভি এমকে-২কে ইসরোর বিজ্ঞানীরা কখনো স্নেহ, কখনো উদ্বেগের সঙ্গে ‘নটি বয়’ বলে ডাকেন। ১৯টি উৎক্ষেপণের মধ্যে ছয়বার ব্যর্থতার কারণে এ নামটি পেয়েছে রকেটটি।

তবে নানা ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই রকেট ভারতের নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তি সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রযুক্তি নিজেদের আয়ত্তে আনার দীর্ঘ প্রচেষ্টার সঙ্গে জিএসএলভির ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।

১৯৯০-এর দশকে ভারী যোগাযোগ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল।

কিন্তু ভূরাজনৈতিক চাপ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বিধিনিষেধের কারণে পূর্ণ প্রযুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর ইসরোর বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই দশক ধরে নিজেদের সক্ষমতায় এই জটিল প্রযুক্তি উন্নয়ন করেন।

২০২১ সালে জিএসএলভি-এফ১০ রকেটে করে জিসাত-১ উৎক্ষেপণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ ঠিকমতো কাজ না করায় মিশনটি সফল হয়নি।

এবারের ইওএস-০৫ মিশনকে সেই অপূর্ণ স্বপ্নেরই এক অর্থে পূরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিওস্টেশনারি কক্ষপথে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে স্যাটেলাইটটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

ইওএস-০৫ থেকে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বনাঞ্চলের আগুন, কৃষি ও পরিবেশগত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণের আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর তথ্য দুর্যোগ মোকাবিলা, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ ইসরোর পরবর্তী উচ্চাভিলাষী মিশনগুলোর জন্যও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে আরও ছয়টি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতের মানব মহাকাশযাত্রা কর্মসূচি ‘গগনযান’। বছরের শেষ নাগাদ প্রথম মানববিহীন গগনযান মিশন পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনের ভাষায়, কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার হলো আরও কাজ। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ তাই ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কী এই EOS-05?

EOS-05 একটি অত্যাধুনিক Earth Observation Satellite। ISRO-র তথ্য অনুযায়ী, এটি ভারতের প্রথম এমন ইমেজিং উপগ্রহ, যা জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথ থেকে পৃথিবীর পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। GSLV-F17 উপগ্রহটিকে প্রথমে Sub-GTO-তে স্থাপন করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে EOS-05-কে নির্দিষ্ট অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।

জিওসিনক্রোনাস অরবিট-এ প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে উপগ্রহটি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর নজর রাখতে পারবে। এর ফলে সাধারণ লো আর্থ অরবিট উপগ্রহের তুলনায় কোনও নির্দিষ্ট এলাকার উপর আরও ধারাবাহিক ভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন বা পাকিস্তানের মতো দেশের উপর স্ট্র্যাটেজিক নজরদারিতে সহায়তা করবে এটি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মিশন?

EOS-05-এর সাফল্য ভারতের Earth Observation বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। কক্ষপথ থেকে নিয়মিত ছবি ও পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি, পরিবেশ এবং বিভিন্ন কৌশলগত প্রয়োজনে তথ্য সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখার ক্ষেত্রে Geosynchronous imaging satellite-এর সুবিধা অনেক বেশি। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল আবহাওয়া পরিবর্তন বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য পাওয়া গেলে আগাম সতর্কতা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তা কাজে লাগতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর