বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামু ট্রাজেডির সেই উত্তম বড়ুয়ার খোঁজ পেল পৃথিবী ১৩ বছর ১৩ দিন পর : দেখা গেল ফ্রান্সে!

🗓 মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ৩১৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ৩১৩ বার দেখা হয়েছে

সোয়েব সাঈদ, রামু :: কক্সবাজারের রামুতে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সংগঠিত সহিংস ঘটনায় আলোচিত উত্তম বড়ুয়া সপরিবারে ফ্রান্সে অবস্থান করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কুরআন অবমাননার একটি ছবি উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুকে দেয়ার জের ধরে ওই সহিংস ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ১৩ বছর পর উত্তম বড়ুয়ার এ ছবি নিয়ে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্রান্সের একটি বিমান বন্দরের লাউঞ্জে উত্তম বড়ুয়া, তাঁর স্ত্রী রীতা বড়ুয়া এবং একমাত্র সন্তান আদিত্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন এ কে এম আতিকুজ্জামান নামে ঢাকার এক গণমাধ্যমকর্মী।

ছবিটি শেয়ার করে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন-

“ উত্তম হারিয়ে গিয়েছিল। ১৩ বছর ১৩ দিন পর অবশেষে তাঁর খোঁজ পেল পৃথিবী।

১৩ বছর ১৩ দিন নিতান্ত কম সময় নয়। যৌবনের শুরু থেকে শুরু বলে এই সময় পুরো এক যৌবন — দীর্ঘের চেয়েও দীর্ঘ এক কাল।

প্রমাণিত মিথ্যা অপবাদে প্রিয় স্বদেশ হারিয়ে পথে পথে ধুকেছে উত্তম। ঘরে অভাবী মা-বাবার সংকট ক্রমে ক্রমে বেড়েছে।

উত্তমের স্ত্রী রিতার কোলে তখন তিন বছরের বাচ্চা।

সমাজের, পরিবারের, আত্মীয়স্বজনের হাজারো লাঞ্ছনা-গঞ্জনা মুখ বুঁজে সহ্য করে কোনরকমে খেয়ে পরে একা একটি মা শিশু সন্তানকে নিয়ে যুদ্ধ করে গেছে প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত।

সে যুদ্ধে বিজয়ীও হয়েছে বলা যায় — আদিত্য জিপিএ ৫ নিয়ে এসএসসি পাস করেছে এবার।

অপরাধ না করেও আজ ১৩ বছর ১৩ তিন ফেরারি রয়েছে উত্তম। কোন অপরাধ না করেই ১৩ বছর ১৩ দিন ধরে স্ত্রী-পুত্রের স্পর্শ, আদর, ভালবাসা থেকে বঞ্চিত ছিল উত্তম।

রিতা-আদিত্যেরও বিন্দুমাত্র অপরাধ ছিল না, তবুও স্বামীর সোহাগ, পিতার স্নেহ তাদের ভাগ্যে জোটেনি, যখন সেসবের ছিল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ওরা এখন একসাথে। ওদের জন্য বুক ভরা ভালবাসা। সুখ সমৃদ্ধি ওদের ছায়া হয়ে থাকুক।”

এদিকে হঠাৎ উত্তম বড়ুয়ার সন্ধানের খবরে  ফেসবুকে তারেক নামে একজন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় লিখেন “রামুর সেই আলোচিত উত্তম বড়ুয়ার খোঁজ মিলেছে।হাজার বছরের সম্প্রীতি নষ্ট করে দিয়েছিল এই উত্তম যে সম্প্রীতি বড়ুয়া ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন ভেদাভেদ ছিল না।সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাজিয়ে পরিবারসহ আরাম আয়েশের দিন পার করছে এখন ফ্রান্সে।”

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উত্তম বড়ুয়া নামে এক যুবক পবিত্র কোরআন অবমাননা করেছে এমন গুজবের জেরে রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধবিহার এবং বৌদ্ধপল্লীর ২৬টি ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন উখিয়া ও টেকনাফের আরো সাতটি বৌদ্ধবিহার পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

এসব ঘটনায় রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়। মামলায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ আসামি করা হয় ১৫ হাজার ১৮২ জনকে। পরে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হলেও ১৮ মামলায় ৯৯৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তবে চার্জ গঠনের পর সাক্ষীরা আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছে উত্তম বড়ুয়া নামের ওই যুবক।

এই বিভাগ এর আরো খবর

বঙ্গভঙ্গের কুশীলব লর্ড কার্জন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নববর্ষে যেভাবে সাজাবেন আপনার ঘর

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর