কক্সবাংলা ডটকম(১ মার্চ) :: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম এবং ফারস নিউজ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোক পালনের অংশ হিসেবে আগামী সাত দিন ইরানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।
ফারস নিউজ এজেন্সির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরানে স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, হামলার সময় তিনি তেহরানে তার দপ্তরে অবস্থান করছিলেন এবং নিজের ‘অর্পিত দায়িত্ব পালনরত’ অবস্থায় ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন এমনটাই দাবি করলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সে দেশের শীর্ষ সেনা কর্তারা।
এক সংবাদমাধ্যমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি মনে করেন খবরটি সঠিক।
যদিও খামেনেই নিহত, এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম।
তাদের পাল্টা দাবি, সর্বোচ্চ নেতা অক্ষত এবং নিরাপদেই আছেন।
বেঞ্জামিনের দাবি, তেহরান-সহ ইরানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানোর পরে খামেনেইয়ের এলাকা ধ্বংস হয়েছে।
আরও দাবি, খামেনেইয়ের মৃত্যুর অনেক ‘ইঙ্গিত’ পাওয়া গিয়েছে।
বেঞ্জামিনের হুঁশিয়ারি, যত দিন প্রয়োজন হবে তত দিন ইরানের উপরে দু’দেশের (ইজ়রায়েল ও আমেরিকা) হামলা জারি থাকবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি ইজ়রায়েলের এক সংবাদমাধ্যমেরও।
ইজ়রায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যমের আরও দাবি, প্রমাণ হিসাবে খামেনইয়ের মৃতদেহ দেখানো হয়েছে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে।
ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, কয়েক মাস ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, আর আক্রমণ শুরু করার তারিখটি চূড়ান্ত করা হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগে।
এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কয়েক দিন ধরে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
এই হামলার পরপরই পুরো ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেনের আওয়াজ শোনা গেছে, সম্ভাব্য পাল্টা মিসাইল হামলা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ‘বেঁচে নেই এমন লক্ষণ পাওয়া গেছে’, দাবি নেতানিয়াহুর
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আর ‘বেঁচে নেই এমন লক্ষণ পাওয়া গেছে’ বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে তিনি খামেনির নিহত হওয়ার কথা সরাসরি নিশ্চিত করেননি।
ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, খামেনি মারা গেছেন এবং তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে খামেনির পরিণতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু ইরানের নাগরিকদের ‘রাস্তায় নেমে আসার এবং কাজ শেষ করার’ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ফলে খামেনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন—এমন অনেক লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আজ সকালে আমরা স্বৈরশাসক খামেনির কম্পাউন্ড ধ্বংস করেছি।’
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই স্বৈরশাসক যে আর নেই, তার অনেক লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে।
আজ সকালে আমরা আয়াতুল্লাহর অনুগত শাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) কমান্ডার এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্মূল করেছি—এবং আমাদের এই অভিযান চলবে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা এই সন্ত্রাসী শাসনের আরও হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব।’
নিজের অফিসে কাজ করছিলেন খামেনেই, আচমকা হামলা! মৃত্যু তাঁর কন্যা, নাতনিরও, আর কী জানাল ইরানের সংবাদমাধ্যম
নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আচমকা সেখানেই বোমা এসে পড়ে। তাঁর সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও। ইরানের সংবাদমাধ্যম এমনটাই জানাচ্ছে। দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে।
সংবাদসংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘হামলার সময় খামেনেই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কাপুরুষোচিত হামলাটি হয়েছে শনিবার ভোরের দিকে।’’ খামেনেইয়ের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘সর্বোচ্চ নেতার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনির শহিদ হওয়ার খবর পাই।’’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হানায়! জানাল তেহরান, টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ইরানের বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে তারা শোকাহত। তবে প্রত্যাঘাত হবে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনীকে নিশানা করে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, সেই তীব্রতম হামলা শুরু হবে আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে না, তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে বোমাবর্ষণ চলবে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার রাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘সবেচেয়ে খারাপ লোক খামেনেই নিহত। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনেই। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল।’’ খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছিল ইজ়রায়েল। দাবি, খামেনেইয়ের সম্পূর্ণ এলাকাই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে ইরানে আক্রমণ শুরু করে ইজ়রায়েল। পরে জানা যায়, আমেরিকার সেনাও হামলায় সহায়তা করছে। যৌথ বাহিনীর হামলায় মুহুর্মুহু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন আছড়ে পড়ছিল তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ইরানের বাহিনীও। তারা শুধু ইজ়রায়েলে নয়, সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই, আবু ধাবিতে বোমা পড়ে। খালি করা হয় বুর্জ খলিফাও। এ ছাড়া, কাতার এবং সৌদি আরবেও ইরান হামলা চালিয়েছে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে। পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পাল্টা হামলা ইরানের
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেই প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
রবিবার সকালে ইজ়রায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর প্রতিনিধিরা একাধিক শহরে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘ষষ্ঠ দফা’র হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কোন কোন অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান:
ইজ়রায়েল: ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। রবিবার সকালে দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করা হয়। কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ ইজ়রায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে।
দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরশাহি): দুবাইয়ে থাকা সিএনএন-এর টিম স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টা ১৫ মিনিটে তিনটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে। বিজ়নেস বে এলাকার আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে জেবেল আলি বন্দরে আগুন লাগে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। বন্দরের দিক থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা গিয়েছে।
দোহা (কাতার): কাতারের রাজধানী দোহায় সিএনএন টিম রবিবার সকাল প্রায় ৭টা ৩০ মিনিটে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।
বাহরাইন: বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক্স-এ জানায়, দেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরাক: ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরের কাছে আগুন থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। এই শহরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন। এর পরই আইআরজিসি ‘খুনিদের শাস্তি’ দেওয়ার শপথ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেয়। টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাতির প্রতিশোধ থামবে না।
ইউএন-এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়াও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ইজ়রায়েলের হামলায় মৃত্যু খামেনেইয়ের কন্যা এবং নাতির
কে হতে পারেন ইরানের নতুন নেতা
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। ইরানের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ পরবর্তী নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে। তবে বর্তমানের উত্তাল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বিশেষভাবে আলোচনায় আসছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে পরবর্তী নেতৃত্বের দৌড়ে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তারা হলেন—
মোজতবা খামেনি: আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে থেকে ইরানের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছেন। ইরানে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের বিরোধিতা থাকলেও বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে তিনি একজন শক্তিশালী দাবিদার হতে পারেন।

মোজতবা খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি: ইরানের সেমিনারি বা মাদ্রাসা ব্যবস্থার প্রধান এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের বর্তমান ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে আলিরেজা আরাফি একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও কট্টরপন্থী আলেম। তিনি খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন এবং তার ধর্মীয় ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাকে নেতৃত্বের দৌড়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে।

পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে আলিরেজা আরাফি
গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই: ইরানের বর্তমান বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি-এজেই দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তি। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং হার্ডলাইনার বা কট্টরপন্থীদের সন্তুষ্ট রাখতে তার নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
হাসান খোমেনি: ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হিসেবে তার একটি বিশেষ পারিবারিক মর্যাদা রয়েছে। তাকে তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে শাসন ব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব অন্য প্রার্থীদের তুলনায় কম হওয়ায় তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

হাসান খোমেনি
মোহাম্মদ মেহদী মিরবাগেরি: কট্টরপন্থী এই আলেম ইরানের ‘একাডেমি অব ইসলামিক সায়েন্সেস’-এর প্রধান। তিনি পশ্চিমা সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী এবং ইরানের কট্টর আদর্শবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-এর সিদ্ধান্ত এবং আইআরজিসির সমর্থনই হবে মূল চাবিকাঠি।














