কক্সবাংলা ডটকম :: মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের এমএইচ ৩৭০ উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার ১২ বছর পার হয়ে গেলেও এর কোনো হদিস মেলেনি।
ভারত মহাসাগরের তলদেশে নতুন করে চালানো অনুসন্ধান অভিযানেও কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া এই উড়োজাহাজটির সন্ধানে গত এক বছর ধরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তবে গতকাল এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার এয়ার এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানায়, সামুদ্রিক রোবোটিক সংস্থা ‘ওশান ইনফিনিটি’র মাধ্যমে চালানো এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত সাফল্য আসেনি।
খবর এপি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটিকে গত বছর এই তল্লাশি চালানোর অনুমতি দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার। চুক্তিটি ছিল ‘খুঁজে না পেলে টাকা নেই’ শর্তে।
অর্থাৎ, যদি উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যেত, তবেই প্রতিষ্ঠানটিকে ৭ কোটি ডলার পরিশোধ করত সরকার।
দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা ছিল।
যেখানে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানেই অত্যাধুনিক ড্রোন ও রোবট দিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
তদন্ত ব্যুরো জানিয়েছে, দুই ধাপে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপ ছিল গত বছরের ২৫-২৮ মার্চ পর্যন্ত।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫৭১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রের তলদেশ পরীক্ষা করা হয়।
তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় মাঝেমধ্যে অভিযানে বিঘ্ন ঘটে।
শেষ পর্যন্ত কোনো ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন না পাওয়ায় নতুন করে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযান আবার কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
২০১৪ সালের ৮ মার্চ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি। আরোহীদের মধ্যে অধিকাংশ ছিলেন চীনের নাগরিক।
স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, উড়োজাহাজটি তার নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে গিয়েছিল।
গত এক যুগে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে কিছু ভাঙা অংশ ভেসে এলেও মূল উড়োজাহাজটির অবস্থান আজও রহস্য হয়ে আছে।
এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের সংগঠন ‘ভয়েস ৩৭০’ মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি এই অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
তারা ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর এবং প্রয়োজনে অন্য দক্ষ সংস্থাগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বজনরা বলছেন, যতক্ষণ উড়োজাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা হাল ছাড়বেন না।
স্বজনদের জন্য এই অনুসন্ধান কেবল একটি উড়োজাহাজ খোঁজা নয়, বরং এক যুগের অনিশ্চয়তা ও শোকের অবসান ঘটানো।
মালয়েশিয়া সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানা গেছে।













