মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় হঠাৎ বেড়ে গেছে চুরির হিড়িক। চুরের দল বিদ্যুতের সার্ভিস তার, পানির পাম্প থেকে শুরু করে দামি দামি জিনিস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
এই নিয়ে ভোক্তাভাগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিলেও সমাধান মিলছে না। পুলিশ কিছু কিছু চোরদের ধরে কারাগারে পাঠালেও তারা ফিরে এসে আবারও চুরির কাজে নেমে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পৌরশহরের ৩নং ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়ার এক বাসার সিসি টিভি ক্যামরার তার চুরি করে নিয়ে যায় চুরের দল। এছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামালাও চুরি করে নিয়ে যায়।
গত ৯ মার্চ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াটার সাপ্লাই ঘরের সার্ভিস তার, বিদ্যুতের মিটার, লোহারা গ্রিলসহ বেশ কিছু মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা ওই চোরকে সনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়।পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রনধীর দাশ বলেন, বাড়ির নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকটা সিসি ক্যামরা লাগিয়েছিলাম। কিন্তু চোরের দল কয়েকটা সিসি ক্যামরাসহ তার চুরি করে নিয়ে যায়। এখনও উদ্ধার করতে পারিনি। ঘটনাটি চকরিয়া থানা পুলিশকেও জানিয়েছি।
চকরিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুল হক বলেন, উপজেলা হেলথ অফিস থেকে ৮নং ওয়ার্ডে একটি ওয়াটার সাপ্লাই ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার, সার্ভিস তার ও লোহার গ্রীলসহ বেশ কিছু মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল।
বিভিন্ন সোর্স মারফত চোরের সন্ধান করে তাতে ধরে ফেলি। পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।
তিনি আরও বলেন, মুলত নেশাগ্রস্ত ও জুয়ার নেশায় আসক্ত কিছু উশৃঙ্কল যুবক নেশা ও জুয়ার টাকা জোগাতে চুরি কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।
এসব চুরের দলকে পুলিশ প্রায়সময় আটক করলেও পরে জামিনে এসে আবারও চুরির কাজে নেমে পড়ে। এদের একটা সিন্ডিকেট রয়েছে।
এরা শুধু চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে মানুষের পকেট কাটা, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে করেনা এমন কোন কাজ নেই।
পুলিশকে তাদের আটক করতে আরও জোরালো ভুমিকা পালন করতে হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কাজে জড়িত থাকার প্রমান ছিলো। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিলো।
তিনি আরও বলেন, চুরি-ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ করতে পুলিশ বদ্ধ পরিকর।
পুলিশ নিয়মিত টহল ছাড়াও এসব অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িতদের আটক করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।













