শুক্রবার ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে ওঠা কোনো স্থাপনা থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🗓 রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

👁️ ৬৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

👁️ ৬৩ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্যোগে সৈকতের অনেক এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে। ভাসমান দোকান সরে যাওয়ায় সড়ক থেকে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আছড়ে পড়া নীল ঢেউ।

তাই ঈদের ছুটিতে পর্যটকেরা সৈকতের নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছেন বলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২২ মার্চ রোববার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজার সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা থাকবে না। এরই মধ্যে ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সৈকতের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যারা প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে।

এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে ভাসমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলীতে অভিযানে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। এই উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনের জন্যই সৈকতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন উদ্যোগে সৈকতের অনেক এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে।

ভাসমান দোকান সরে যাওয়ায় সড়ক থেকে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আছড়ে পড়া নীল ঢেউ।

ঈদের ছুটিতে তাই পর্যটকেরা সৈকতের নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছেন বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় তিন দশক আগে ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট’ কমিটি গঠন করা হয়। পদাধিকার বলে কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক।

সরকার পরিবর্তন হলে কমিটির কিছু সদস্য পরিবর্তন হয়। মূলত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কমিটিতে যুক্ত হন। ৫ আগস্টের পর কমিটি এখনো পুনর্গঠন করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কার্ডধারীদের বেশির ভাগ বহিরাগত। স্থানীয় বাসিন্দারা সে কার্ড ভাড়া নিয়ে সৈকতে দোকান খুলে ব্যবসা করেন।

প্রতিবছর ১০ হাজার টাকার জমা দিয়ে ওই ‘কার্ড’ নবায়ন করতে হয়। কিন্তু কার্ডধারীরা তা অন্যদের কাছে ভাড়া দেন ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে।

কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৪টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হচ্ছে, কার্ড বা পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু এসব শর্তের বেশির ভাগ দোকানিরা মানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সূত্র জানায়, সৈকত রক্ষণাবেক্ষণ, আলোকায়নসহ নানা কাজে এই অর্থ ব্যয় হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সুগন্ধা পয়েন্টে স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে, এর আগে দুপুরে পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে ঈদ পুনর্মিলনীতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, প্রশিক্ষণ, মেধা, প্রযুক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে বিএনপি। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।

সালাহউদ্দিন আহমদ ‎বলেন, বিগত সময়ে সনাতনী শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে কোটি কোটি বেকার সৃষ্টি হয়েছে। ডিগ্রিধারী বেকার সৃষ্টি নয়, কর্মক্ষম নাগরিক গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবে সরকার।

এছাড়া, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

টেকনাফে ৬ কোটি টাকার চিংড়ি রেণু জব্দ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর