সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ

🗓 সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ২০ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ২০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

এ ছাড়া আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এমন অবস্থায় আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএপিএমইএ সভাপতি এবং বিজিবিএর শীর্ষ নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রফতানি নিম্নমুখী।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রফতানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রফতানি নিম্নমুখী, অর্থাৎ কারখানাগুলো পরিমিত সক্ষমতায় চলতে পারছে না, ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে এবং অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেছে।

বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রফতানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা ৫ বছরের জন্য নির্ধারণ করা, সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপিসহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২ শতাংশ-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি, গত ৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রফতানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

উৎসে কর কমানো ও নগদ সহায়তায় কর অব্যাহতির দাবি : পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উৎসে কর হ্রাস, নগদ সহায়তায় কর অব্যাহতি ও সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দাবি করেছেন।

পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রফতানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণ করা এবং সাব-কন্ট্রাক্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চুক্তির মূল্য পরিশোধের সময় ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর কর্তন হতে অব্যাহতির প্রস্তাব করে বিজিএমইএ।

প্রণোদনার ওপর কর চায় না বিটিএমএ :

এদিকে বৈঠকে রফতানি আয়ের ওপর ১ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর ধার্য ও রফতানি ভর্তুকির ওপর ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, প্রণোদনার ওপর কর আরোপ হলে সেটা কেমন যেন লাগে। আমি মনে করি, এটি প্রত্যাহার করা যেতে পারে। এটা খুব বড় টাকা না, বাট ইট কন্ট্রাডিক্টস উইথ দি আইডিয়া অব ইনসেন্টিভাইজিং সামবডি।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, রফতানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ নেওয়া হচ্ছে। সেখানেও ট্যাক্স আছে। আফটার এক্সপোর্ট আমাদের বাড়তি ট্যাক্স যেটা দেওয়া হয়, সেটা কিন্তু পরের বছর ক্যারি ফরোয়ার্ড হচ্ছে না। তখন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, আমরা এবার করপোরেট রিটার্নও অনলাইন করেছি। অনলাইনে এগুলো সব অ্যালাউড।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আমাদের একটা পণ্য শুরু হয় কটন থেকে, তারপর হয় গ্রে ফেব্রিক, তারপর হয় কালার ফেব্রিক, তারপর হয় আরএমজি। এই ধাপে ধাপে ৩ শতাংশ করে আমরা ১২ শতাংশ বা ১৪ শতাংশ সব মিলিয়ে এ রকম টিডিএস আসে। দেখবেন জিনিসটা কিন্তু একটাই, পণ্যটা একটাই। বারবার যখন করা হচ্ছে, এটা একটা বাড়তি লোড হয়ে যাচ্ছে। উই আর লুজিং কম্পিটিটিভনেস।

তিনি আরও বলেন, ম্যান-মেড ফাইবারে অনেক নতুন ফাইবার এসেছে। বহির্বিশ্বে অলমোস্ট ৭০ শতাংশ আরএমজি ইজ প্রি-ডমিনেন্টেড বাই ম্যান-মেড ফাইবার। যেখানে আমাদের বর্তমানে একদমই নেই বললেই চলে। তো আমরা এই সেক্টরে অগ্রসর হতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা চাই।

সেখানে আপনার কর দেওয়া আছে বেশ কিছু নতুন ম্যাটেরিয়ালের ওপর, আমরা সেটা উল্লেখ করেছি। আপনারা যদি ডিআইটিটা বাদ দেন আর শুল্কমুক্ত তো আছেই আপনার বন্ডে আমরা আনতে পারি। তা হলে আমরা এই সেক্টরটাতেও আরেকটু অগ্রসর হতে পারব।

তিনি আরও বলেন, সোলার এখন আমাদের দরকার। আমরা খরচ কমাতে চাই, কম্পিটিটিভনেস বাড়াতে চাই। তো একটা সোলার এস্টাবলিশ করতে গেলে বা প্যানেল বসাতে গেলে চারটি এইচএস কোড চার রকম জায়গায় বন্ধ।

এটিকে যদি আপনারা একটি এইচএস কোডের আন্ডারে নিয়ে আসতে পারেন, আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয় কাজ করতে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সোলারে আমার যতটুকু মনে পড়ে গতবার আমরা সব সুবিধা দিয়ে দিয়েছি। একটা আইটেম শুধু থাকতে পারে।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আমরা যে ফেব্রিক ইমপোর্ট করি সেখানে আপনার সুতার দামে কাপড় অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। এটা তো যৌক্তিক হয় না। ৪ ডলারে অ্যাসেসমেন্ট করা হচ্ছে ১ কেজি কাপড়।

১ কেজি কাপড় দিয়ে আপনার ২৫-৩০টি ছেলেদের অন্তর্বাস বা জাঙ্গিয়া হয়, লেহেঙ্গা হয়, ঘাগরা হয়। যা-ই হোক, ওই দিকে যাচ্ছি না। এগুলো সেনসিটিভ প্রোডাক্ট। কিন্তু আপনারই বন্ডের আন্ডারে যদি ৭ টাকা বা ৯ ডলারে আসে, তখন তো তার ট্যাক্স ইভেইড করার কিছু থাকে না, রিয়েল প্রাইসটা দিয়ে দিচ্ছে।

কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে কাজ করছে সরকার : এনবিআর চেয়ারম্যান

অপরদিকে দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকাস্থ আইসিএমএবির রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবসময় গঠনমূলক প্রস্তাবনা ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি।

কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে সরকার অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরতের প্রক্রিয়া উন্নত করছে। পাশাপাশি করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

তিন দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ভীতি

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর