মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেড়িবাঁধের পাশে দুই গ্রামের দেড়শ পরিবার চরম আতঙ্কে

🗓 মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ১৬ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ১৬ বার দেখা হয়েছে

এম.জুবাইদ,পেকুয়া :: বেড়িবাঁধের পাশের দুই গ্রাম সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহের পূর্ণিমার জোয়ারকে ঘিরে এ দুই গ্রামের অন্তত দেড়শ পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানাযায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সদর বড়ঘোপ ইউনিয়নের রোমাইপাড়া ও সাইটপাড়া ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়া বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের পানি বৃদ্ধি পেলে লবণাক্ত ঢেউ আছড়ে পড়বে ভাঙনের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ঘরবাড়িতে। এতে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যেতে পারে বসতভিটা।

ইতোমধ্যে ভাঙনের কারণে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় খাদের কিনারায় চলে গেছে। জোয়ারের তোড়ে ফেলা জিও ব্যাগও ছিঁড়ে সাগরে ভেসে যাচ্ছে।

রোমাইপাড়া ও সাইটপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের, নুরুল আলম, রুহুল কাদের, আমির হোসাইন, নুর হোসেন, মোক্তার হোসাইন ও ফরিদ আলমসহ অনেকে জানান, আগের জোয়ারেই তাদের বসতভিটার অর্ধেক সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

সামনে ভরা পূর্ণিমায় বাতাস ও জোয়ারের তীব্রতা বাড়লে বাকি ঘরবাড়িও হারিয়ে যেতে পারে। জীবিকার তাগিদে সাগরপাড়ে বসবাস করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সাইটপাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা আনসার-ভিডিপি কমান্ডার মো. ফয়েজ বলেন, আগে ছোট আকারের জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, যা জোয়ারে সহজেই ছিঁড়ে যায়। বড় আকারের জিও ব্যাগ না দিলে জরুরি মুহূর্তে কোনো কাজ হবে না। ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে সাইটপাড়া জামে মসজিদ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, অতিরিক্ত জোয়ার হলেই রোমাইপাড়া ও সাইটপাড়ার বাঁধসংলগ্ন জেলে পেশার প্রায় ১৫০ পরিবারের বসতভিটা সাগরে চলে যাবে। আসন্ন পূর্ণিমার আগেই জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।

শুধু রোমাইপাড়া ও সাইটপাড়া নয়, কাহারপাড়া, কাজিরপাড়া, তেলিপাড়া, বায়ুবিদ্যুৎ এলাকা, তাবালেরচর, কৈয়ারবিল ও উত্তর ধুরুং মিয়ারাকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এসব এলাকায় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের জরুরি সংস্কার বিষয়ে কক্সবাজার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহ উদ্দীন আহমদ বলেন, কুতুবদিয়ার ভাঙা বাঁধের বিভিন্ন স্পট ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও খুব কম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।

কক্সবাজার ২(কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, কুতুবদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে যেসব স্থানে জোয়ারে বাঁধ ভেঙে গেছে, সেসব স্থানে বর্ষা মৌসুমের আগেই জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি সংস্কার করা হবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর