বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওপেক’ থেকে বেরিয়ে গেল আরব আমিরাত, বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধাক্কার শংকা

🗓 বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন ‘ওপেক’ এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে বেরিয়ে গেল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দেশটির এ সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।

এ প্রস্থানের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ওপেক মূলত সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে।

ইউএইর মতো একটি বড় উৎপাদনকারী দেশ বেরিয়ে গেলে ওপেকের সামগ্রিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং দাম নির্ধারণে সংগঠনটির প্রভাব কমে আসতে পারে।

ইউএই ১৯৬৭ সাল থেকে ওপেকের সদস্য এবং সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মাত্র সাত বছর পর যোগ দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাবে সৌদি আরব ও ইরাকের পর ইউএই ছিল ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। দীর্ঘ কয়েক দশকের অংশীদারত্বে সংগঠনের নানা সিদ্ধান্তে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইউএইর জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উৎপাদন নীতি ও সক্ষমতার বিস্তারিত পর্যালোচনার পর জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ওপেক ছাড়লে বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে আরো নমনীয়ভাবে সাড়া দেয়ার সুযোগ মিলবে। তবে এই মুহূর্তে কেন এ সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এ ঘোষণার পেছনে আঞ্চলিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একই ওপেক সদস্য ইরান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউএইর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধ ইউএইর তেল রফতানিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, যা দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তিকেই হুমকিতে ফেলেছে।

বর্তমানে ওপেকে ১২টি দেশ রয়েছে। এগুলো হলো সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (যারা ১ মে থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে), ভেনেজুয়েলা, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

অন্যদিকে ওপেক-প্লাস হলো ওপেক সদস্যদের সঙ্গে আরো কিছু বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের একটি বৃহত্তর জোট, যা ২০১৬ সালে গঠিত হয়। এই জোটে ওপেকের বাইরে যে দেশগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ওমান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, বাহরাইন, ব্রুনেই, দক্ষিণ সুদান এবং সুদান।

মূলত বৈশ্বিক তেলের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং উৎপাদন কোটা নির্ধারণে সমন্বয় করতেই ওপেক-প্লাস জোটটি কাজ করে থাকে। ইউএইর প্রস্থানের পর এই জোটের ভেতরে ভারসাম্য বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইউএই স্বাধীনভাবে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ পেলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দাম কমার চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ এবং আঞ্চলিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে, যা আবার দাম বাড়ার কারণ হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে এই ঘটনা ওপেকের অন্য সদস্যদের মধ্যেও অসন্তোষ ও বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে ভঙ্গুর হয়ে পড়া ওপেক-প্লাস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের জ্বালানি ভূরাজনীতিতে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর