সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির অস্বস্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা

🗓 সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৫ মে) :: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলেও তা চায় না ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার—এমনটাই মনে করছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে পারে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো।

বিএনপি নেতাদের ধারণা, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নতুন করে সংগঠিত হবে।

বিশেষ করে তাকে কারাগারে নেওয়া হলে দলটির পক্ষ থেকে রাজপথে আন্দোলন তীব্র হতে পারে। এতে সরকারের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন মহল।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে মামলাগুলোর আইনগত মোকাবিলা করতে চান।

এ জন্য তিনি দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর রয়েছে।

আইন অনুযায়ী দেশে ফিরলে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে হবে এবং সেখান থেকেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে হবে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় আদালত চাইলে সেই আবেদন খারিজও করতে পারে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক চাপ—দুইই বাড়তে পারে। তাই সরকার নতুন করে কোনো সংকট তৈরি করতে আগ্রহী নয়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী-কেও এ বিষয়ে সন্দেহের চোখে দেখছে বিএনপি।

দলটির নেতাদের ধারণা, শেখ হাসিনার বিচার ও সম্ভাব্য ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারে, যা সরকারকে আরও বেকায়দায় ফেলবে।

শনিবার ময়মনসিংহে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরোক্ষভাবে এমন ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে দেশ থেকে বিতাড়িতরা আবারও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে।

আর তলে তলে তাদের সঙ্গে খাতির করছে আরেকটি পক্ষ।” যদিও তিনি সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলে বক্তব্যটি জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হবে বলেই তারা আশা করেন।

তার ভাষ্য, “তিনি যদি দেশে এসে সাজা ভোগ করতে চান, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাব। আর যদি না আসেন, তাহলে সরকারের উচিত তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে মামলার মোকাবিলা করুন।

তবে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

দুইজন সাবেক কূটনীতিকের মতে, ভারত কখনোই প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে না।

তাদের ধারণা, সরকারও বাস্তবে তার দেশে ফেরা চায় না বলেই ট্রাভেল পাসের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার কূটনৈতিক ‘লাল পাসপোর্ট’ বাতিল হয়ে গেছে। নতুন কোনো সাধারণ পাসপোর্টও তাকে দেওয়া হয়নি।

ফলে বর্তমানে তিনি কার্যত পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় ভারতে অবস্থান করছেন।

আইন অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে পাসপোর্ট হারালে বা মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন তাকে ট্রাভেল পাস দিতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল হাই বলেন, সাধারণত নাগরিকত্ব নিশ্চিত হলে ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রে আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তা আটকে যেতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

তার বিচার, আপিল প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে সরকার বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

আব্দুল লতিফ মাসুম মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।

তার মতে, “তিনি দেশে ফিরলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সরকারও সম্ভবত সেই ঝুঁকি নিতে চাইবে না।”

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বিএনপি-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো শেখ হাসিনার ইস্যুকে কেন্দ্র করে একযোগে মাঠে নামলে সরকার তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে।

সেই হিসাব-নিকাশ থেকেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে অনীহা দেখাচ্ছে ক্ষমতাসীন মহল।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর