দীপন বিশ্বাস :: কক্সবাজার জেলা আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অস্ত্রসহ আটক জিয়াউল হক জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী মেম্বারকে ঘিরে আট মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
একই ঘটনায় বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের অভিযোগে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অন্তত সাত রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে আদালতে আসেন।
হাজিরা শেষে আদালত ভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় দুইটি মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনায় লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই মইন উদ্দিন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন।
এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রনি-সহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহত মইন উদ্দিনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
হামলার সময় লিয়াকত আলীর সঙ্গে থাকা লোকজন ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের একজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আটক জিয়াউল হক জিয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।”
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, আটক জিয়াউল হক জিয়াকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, হামলার কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।













