বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতিতে বেড়েছে ব্যয়, কমেছে আয় : প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ৬ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ৬ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৮ অক্টোবর) :: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। আগস্টে কমার পর সেপ্টেম্বরে দেশে আবারও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। গত কয়েক মাস দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী ছিল। এদিকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। যার প্রভাবে নিম্নমুখী মূল্যস্ফীতি ফের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে।

অন্যদিকে রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতির মুখে সরকার ব্যাংকিং খাতনির্ভর হয়ে পড়ায় বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমে এসেছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ থমকে গেছে। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানিতে মন্দার ফলে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন বিশ্লেষকরা।

সরকারি হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে, যা তার আগের মাস আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে দেশের গড় মজুরি বৃদ্ধির হার। সরকারি হিসাবে সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়ে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা তার আগের মাস আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যয় বাড়লেও কমেছে আয়। ব্যয়ের চেয়ে আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় না বাড়ায় সংসারের খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে নিম্নআয়ের মানুষদের।

গত মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বা মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছিল গড় মূল্যস্ফীতি। তবে সেপ্টেম্বরে এসে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে মূল্যস্ফীতি। আর এই মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে প্রভাব রেখেছে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। যার প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাস পর গত জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামে। গত এপ্রিলে ৯ দশমিক শূন্য চার শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছিল। তবে জুনে তা সামান্য কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নামে। জুলাইয়ে তা থেকে আরও দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছিল; আগস্টে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামে।

সবশেষ মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ৮ দশমিক ৩৪ মূল্যস্ফীতির মানে হচ্ছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যে পণ্য বা সেবা কিনতে খরচ হয়েছে ১০০ টাকা, সেই একই পণ্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কিনতে খরচ হয়েছে ১০৮ টাকা ৩৪ পয়সা।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। এতে পরিবহন, খাদ্যপণ্যসহ অনেক জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। ওই মাসের ১০ দিনে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জিনিসপত্রের দামে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্নমুখী মূল্যস্ফীতি ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব আগামী দিনেও পড়বে। তাদের মতে, আগামী দু-এক মাস মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা নেই।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে, যা আগস্ট মাসে ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে, যা আগস্ট মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। সেই হিসাবে মাসের ব্যবধানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ এলাকায় শহরের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি ছিল।

গ্রাম ও শহরের মূল্যস্ফীতি পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, গ্রামে সেপ্টেম্বর মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে।

শহর এলাকায় সেপ্টেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। শহরের খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি বাড়লেও মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। খাতওয়ারি হিসেবে সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ তিন খাতেই মজুরি আগের মাসের চেয়ে কমেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, একদিকে যে হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তার বিপরীতে ধারাবাহিকভাবে কমছে মজুরি বৃদ্ধির হার

সিপিআই সূচক অনুযায়ী, গত এক মাসের ব্যবধানে যেখানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, সেখানে উল্টা মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কমেছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের ওপরে থাকবে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ পার হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সুদের উচ্চহার, জ্বালানি সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিল্পখাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিসহ একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ লাখে।

অন্যদিকে রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতির মুখে সরকার ব্যাংকিং খাতনির্ভর হয়ে পড়ায় বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমে এসেছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ থমকে গেছে। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানিতে মন্দার ফলে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শিল্পখাতে চলছে বেহাল দশা। লোকসানের ভার সামলাতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক কারখানা। কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পুরোনো-নতুন মিলিয়ে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। ব্যক্তি ও সামষ্টিক পর্যায়ে আয় না বাড়লেও বাড়ছে ব্যয়। মূল্যস্ফীতি কমছে না। দেশে দরিদ্র ও অতি দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে। দেশে শিল্প-বিনিয়োগে খরা। সরকারি ঋণ বাড়ছে। বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে। রপ্তানিতে বড় সুখবর নেই। পুরোনো বাজার কমছে। বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। রাজস্ব আদায়ে গতি নেই।

গত অর্থবছরে দেশের মোট রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি ছিল প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ ঘাটতি বেড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে দেশের শিল্প-বিনিয়োগে গতি নেই। আর তাই রাজস্ব আদায়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, শিল্পখাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি থাকলে রাজস্ব আদায় বাড়বে কীভাবে? মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমছে না। ফলে ব্যবসায়ের খরচ কমার মতো পরিস্থিতি নেই। ফলে প্রবৃদ্ধি কমবে এটাই তো স্বাভাবিক। সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি তিন শতাংশ ছাড়াবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আগস্ট শেষে সরকারের মোট ব্যাংকঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা কমে ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে।

বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা, যা আগস্ট শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ কমিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ায় সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, রাজস্ব আদায় দুর্বল থাকায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। সরকারকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিতে হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ কমে যাবে। ফলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে–এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ পার হবে কি না তা অনিশ্চিত।

দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি টানা ছয় মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ব্যাংকঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় ঋণপ্রবাহে এই ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে। মার্চ থেকে আগস্ট–প্রতি মাসেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করেছে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কেউ ব্যবসায় বিনিয়োগ না করায় ঋণের চাহিদাও কমেছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার না হওয়ায় বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন হচ্ছে না। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি রয়েছে। জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নীতি সুদের হারও বেশি। ফলে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। মাঝে কিছুটা বাড়লেও তা ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। সবশেষ আগস্ট মাসে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, টানা ষষ্ঠ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার পরও নতুন ব্যবসা করার জন্য ব্যবসায়ীরা আস্থা পাচ্ছেন না। তা ছাড়া দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা এখন আবার প্রকট হয়ে উঠেছে। আবার জ্বালানি সমস্যায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বাড়ছে। এরই মধ্যে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। মোট প্রবৃদ্ধি কতটা বাড়বে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।

দেশে আমদানি ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়েনি। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দেশের আর্থিক হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও ঘাটতি বেড়েছে। তবে প্রবাসী আয় বাড়ায় চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে বৈদেশিক লেনদেনের এ চিত্র উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে আমদানি ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২২০ কোটি ডলার। বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার। ফলে এ দুই মাসে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় ৩৮২ কোটি ডলার বেশি হয়েছে।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৮৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক লেনদেনের ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

এ সময়ে আর্থিক হিসাবেও বড় ঘাটতি হয়েছে ১১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হিসাবে ঘাটতি ছিল ২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় ১১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বাড়ার পেছনে এটাই মূল কারণ। তা ছাড়া ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির জন্য ব্যয় বাড়েনি। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আর্থিক হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ঘাটতিও বেড়েছে। অর্থনীতি বর্তমান ধারা থেকে কতটা বের হয়ে ইতিবাচক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এই বিভাগ এর আরো খবর

স্পষ্ট হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাঠামো

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

মারা গেলেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকার

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ায় কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা ঘিরে সতর্ক বিএনপি

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর