সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ : রেসকোর্সের যে ভাষণ বদলে দেয় ইতিহাস

🗓 শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৪১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৪১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৭ মার্চ) :: বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের সামনে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেন।

তবে এই ভাষণের পেছনে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বঞ্চনার ইতিহাস।

পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদের অধিকাংশই পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার ভিত্তি তৈরি করে। এরপর ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন, যা বাঙালির ‘মুক্তির সনদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার এবং কারামুক্ত হয়ে শেখ মুজিব ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন।

পরের বছর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করেন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকাসহ সারা পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। সরকারি দপ্তর, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সর্বত্র কার্যত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে প্রশাসন। এই সময় ঢাকার রাজপথে প্রতিদিন লাখো মানুষের মিছিল-সমাবেশ চলতে থাকে।

এই উত্তাল পরিস্থিতিতে ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ডাকা হয় বিশাল জনসমাবেশ। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীসহ সারা বিশ্ব তখন অপেক্ষা করছিল শেখ মুজিবুর রহমান কী ঘোষণা দেন তা শোনার জন্য।

সেদিন লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন–‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করলেও বাঙালিদের ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি চার দফা শর্ত পূরণের আগে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দেন।

৭ মার্চের ভাষণের পর কার্যত পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই দেশ চলতে থাকে। গ্রাম থেকে শহর–সব জায়গায় শুরু হয় প্রতিরোধের প্রস্তুতি।

অবশেষে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নৃশংস অভিযান চালায়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ তাই কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়; এটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা। সেই ভাষণের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর