কক্সবাংলা ডটকম :: গত শুক্রবার মিসাইল হামলায় ভেঙে পড়েছিল আমেরিকার F15 যুদ্ধবিমান (American Fighter jet)। একজন পাইলটকে উদ্ধার করলেও, অন্য জনের কোনও খোঁজ মিলছিল না।
অবশেষে ইরানের মাটিতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করেছে আমেরিকান সেনা।
তার পরেই রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানকে তীব্র গালিগালাজ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (American President Donald Trump)। যা মুখে এসেছে তাই বলেছেন তিনি। পাল্টা অবশ্য কোনও হুমকি ধমকি দেয়নি ইরান।
শুধু ঠান্ডা মাথায় ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’-এর ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ট্রাম্পকে। আর সেটাই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কী হয়েছিল সেই অভিযানে?
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭৯ সালে। ইসলামিক রেভোলিউশনের পরে তেহরানে আমেরিকার দূতাবাস দখল করে নেয় ইরানের ছাত্ররা। ৫২ জন কূটনীতিককে পণবন্দি করে রাখা হয়। তাঁদের উদ্ধার করতেই গোপন সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা। তারই পোশাকি নাম ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’। ঠিক হয়, ৮টি হেলিকপ্টারে ডেল্টা ফোর্সের জওয়ানরা মরুভূমিতে নামবে। তার পরে তেহরানে গিয়ে ছাড়িয়ে আনবে বন্দিদের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী USS Nimitz (CVN-68) থেকে ওড়ে ৮টি হেলিকপ্টার। কিন্তু শুরুতেই বাঁধে বিপত্তি। মরুভূমিতে প্রবল ধুলোর ঝড় শুরু হয়। মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আর ধূলিঝড়ে বিকল হয়ে মরুভূমিতেই আছড়ে পড়ে দু’টি হেলিকপ্টার। মৃত্যু হয় আট জন আমেরিকান সেনার। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বাতিল করে দেওয়া হয় মিশন। গোটা বিশ্বের সামনে মুখ পোড়ে আমেরিকার।
এ দিন ট্রাম্পের গালিগালাজের পরেই মরুভূমিতে ভেঙে পড়া সেই হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস লিখেছে, ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।’ আসলে পাইলটকে উদ্ধার করতে পারলেও আমেরিকা যে তাদের F-15 যুদ্ধবিমান বাঁচাতে পারেনি, সেটাই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে ইরান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের একাধিক রাষ্ট্রদূতও এই ছবি পোস্ট করেন। রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায় মরুভূমি বিপর্যয়ের সেই ইতিহাস।
তবে ট্রাম্পকে গালিগালাজ করতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন অনেকেই। ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনও প্রেসিডেন্ট এই ভাষায় কথা বলেছেন বলে মনে করতে পারছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ। থাইল্যান্ডে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও লিখেছে, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তা হলে আপনার আসল রূপ? এ ভাবেই আপনি বিশ্বের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে চান? ভাষায় মর্যাদা রাখুন।’ জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস আরও ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লিখেছে, ‘শুধু গালিগালাজ করবেন না। দুটো কথাও বলুন।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানের মিসাইল হামলায় ভেঙে পড়েছিল আমেরিকার অত্যাধুনিক F-15 যুদ্ধবিমান। ওই বিমানে দু’জন পাইলট ছিলেন। একজনকে উদ্ধার করতে পারলেও, আর এক পাইলটের কোনও হদিশ মিলছিল না। শনিবার ভোরেই ইরানের মাটিতে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে আমেরিকান সেনা। পাল্টা তাঁদের লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ শুরু করে ইরান। কিন্তু সেই হামলার মধ্যেও পাইলটকে খুঁজে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছে আমেরিকা। এর পরেই কুকথায় ফুলঝুরি ছুটিয়ে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘হয় হরমুজ় খুলে দিন, না হলে নরকে বাস করতে হবে।’ এ বার পাল্টা দিল ইরান।














