এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালিত চকরিয়া উপজেলার বাঘগুজারা রাবার ড্যামের উপর দিয়ে উজানের দিকে ঢুকছে সামুদ্রিক লবণ পানি। বেশকদিন ধরে লবণ পানি ঢুকে মাতামুহুরী নদীতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।
এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে রোপিত বোরোধান ও রকমারি সবজি চাষে মিঠাপানির সেচ সুবিধায় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থার কারণে মিঠাপানির সেচ সুবিধা বাধাগ্রস্ত হবার সম্ভাব্য প্রেক্ষাপটে শত শত কৃষক চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠায় ভুগছেন।
চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মিঠুন চৌধুরী বলেন, আগেরদিন রাবার ড্যামের পাশের কয়েকজন কৃষক নদীতে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢুকার কথা জানিয়েছে। তাঁরা জমিতে সেচ দিয়ে বুঝতে পারেন নদীর পানি লবনাক্ত হয়ে গেছে।
রোববার সকালেও দুইজন কৃষক নদীতে লোনাপানির উপস্থিতি পেয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, রাবার ড্যাম সংলগ্ন নদীতে গিয়ে লবণ পানি ঢোকার বিস্তারিত নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানানো হবে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী অনেক কৃষক জানিয়েছে, মৌসুম শেষ হলেও এখনো অধিকাংশ এলাকায় জমিতে বোরোধানে সবেমাত্র তোড়-দানা এসেছে।
এসব জমির ধান কর্তন করতে আরও ১৫-২০ দিনের বেশি সময় লাগবে। আবার সবজি খেতেও সেচ দিতে হচ্ছে। এসব কারণে রাবার ড্যাম দুটির মাধ্যমে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির উৎস আরও কিছুদিন ধরে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার (হিসাব ও উন্নয়ন) মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১৭,৭৯০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জমিতে রকমারি সবজি চাষ হয়েছে।
তিনি বলেন, মৌসুম এখন শেষপর্যায়ে, বেশিরভাগ এলাকায় বোরোধান কর্তন ঘনিয়ে এসেছে। তবে অনেক এলাকায় এখনো ধানের তোড়-দানা বের হচ্ছে। কৃষকেরা নতুন সবজি ফলিয়েছে। সেসব জমিতে এখনো সেচ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিবছর চকরিয়া উপজেলার উল্লেখিত পরিমাণ জমিতে নিরবিচ্ছিন্ন চাষাবাদ করতে কৃষকেরা সেচ সুবিধা হিসেবে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির উপর নির্ভরশীল।
সেই আলোকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংয়ে প্রতিবছর শুস্ক মৌসুমে মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে কৃষকের মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে আসছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব) সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত বাঘগুজারা ও পালাকাটা পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি প্রতিবছর নভেম্বর মাসে ফুলানো হয়, নদীর মিঠাপানির উৎস ধরে রাখার জন্য।
এরপর কৃষকের চাষাবাদ শেষ হলে (বিশেষ করে বোরোধান চাষ) মার্চ মাসের শেষদিকে অথবা এপ্রিল মাসের শুরুতে রাবার ড্যাম ডাউন করে দেওয়া হয়। তবে এবছর এখনো রাবার দুটি ডাউন করা হয়নি, যেহেতু কিছু কিছু এলাকায় এখনো চাষাবাদ রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমরা ডাউন করিনি, তাই বাঘগুজারা রাবার ড্যাম উপচে মাতামুহুরী নদীতে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢুকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বাঘগুজারা রাবার ড্যাম উপচে সামুদ্রিক লবণ পানি মাতামুহুরী নদীতে ঢুকে মিশে গেলে চাষের জন্য বেশ ক্ষতি হবে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।














