এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সিটের নীচে লুকিয়ে রাখা ৩৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি ও বাস চালককে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজারের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) এর একটি টিম।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাবের কর্মকর্তারা।
সোমবার দুপুরে প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।
তিনি বলেন, ইয়াবার একটি চালান নিয়ে কতিপয় মাদক পাচারকারী চক্র কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাবার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বাজার বাস স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয় র্যাবের একটি আভিযানিক দল।
এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাসের এফ-১ সিরিয়ালের সিটের নিচে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসটির চালকসহ দুইজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার হোসেনপুর এলাকার মৃত হযরত হায়দার আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৫৮) এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার শিকদার বিল এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে রবিউল হোসেন (২৬)। তাদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ বাসটির চালক।
র্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবাহী বাসের আড়ালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার বড় বড় চালান পাচার করে আসছিলেন।
এ চক্রটি একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছে বলেও জানা গেছে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, র্যাবের একজন কর্মকর্তা বাদি হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মাদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছেন। দুই আসামিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সৌপদ্দ করা হয়েছে।















