নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে তিনি স্বশরীরে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে অন্য এক ব্যক্তিকে দিয়ে ‘প্রক্সি’ বা প্রতিনিধির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত দুই বছর ধরে এই অনিয়ম চললেও রহস্যজনক কারণে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে টইটং ইউনিয়নের বটতলী এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে শহিদুল ইসলাম এই বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পদটি এমপিওভুক্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, যাতায়াত ও ব্যক্তিগত সুবিধার অজুহাতে তিনি রাতে বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নৈশপ্রহরীর স্বশরীরে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমানে শহিদুলের পরিবর্তে তারেক নামক এক ব্যক্তি ভাড়াটে হিসেবে বিদ্যালয় পাহারা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে তারেক জানান, শহিদুল ইসলাম তাকে মাসিক চুক্তিতে টাকা দেন এবং তিনি তার পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে মাঝে শহিদুল ইসলামও আসেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজে দায়িত্ব পালন না করলেও প্রতি মাসে ব্যাংক থেকে সরকারি বেতনের পুরো টাকা উত্তোলন করেন শহিদুল। এরপর বেতনের একটি সামান্য অংশ প্রক্সি দেওয়া ব্যক্তিকে প্রদান করে বাকি টাকা কোনো শ্রম ছাড়াই ভোগ করছেন।
সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের সাথে নৈশপ্রহরীর একটি ফোনালাপে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। ফোনালাপে শহিদুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, “স্যার আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরুন, আমি চাকরি ছেড়ে দেব। আমাকে অনেকেই চেক দেয়। আমি হাজির হলেও আপনাকে অনেকে অপতথ্য দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজাখালী ফৈজুন্নেছা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে অন্যকে দিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ভাড়াটে পাহারাদারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা না থাকায় যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় দায়ভার নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করি। তবে কোনো কারণে যেতে না পারলে তারেককে পাঠাই। একা থাকতে ভয় লাগে বলেই একজনকে সাথে রাখি। যে বেতন পাই তা দিয়ে গাড়ি ভাড়াই হয় না। অনেক টাকা খরচ করে চাকরিটা নিয়েছি, এখন এটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্কুলের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নৈশপ্রহরী শহিদ কোনো সময় দায়িত্ব পালন করেনি। তবে তিনি মাঝেমধ্যে স্কুলে এসে কয়েক মাসের তাঁর হাজিরা স্বাক্ষর করে যান। এটা জানার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা ছোটখাটো কর্মচারী। দেখেও কিছু বলতে পারিনা। তবে সাংবাদিকরা তৎপর হওয়ায় এখন কতৃপক্ষের হুশ হচ্ছে। অথচ এসব অনিয়ম তারা আগে থেকেই জানতো।
মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, নৈশপ্রহরী শহিদুল ইসলাম শুরু থেকেই দায়িত্ব অবহেলা করছেন। আমরা তাকে একাধিকবার সতর্ক করেছি। ইতোমধ্যে তাকে শোকজ (স্মারক নং ২৮/২৪) করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার এই অবহেলার কারণে বিদ্যালয়ের মূল্যবান নথিপত্র ও আসবাবপত্র চুরির ঝুঁকি বাড়ছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ফয়সাল চৌধুরী জানান,বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। বারবার সতর্ক করার পরও তিনি সংশোধন হননি। বিধি মোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পেকুয়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার উলফাত জাহান চৌধুরী বলেন, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল কমিটির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














