সরওয়ার কামাল,মহেশখালী :: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ আগস্ট রবিবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী সফরে আসছেন।
সফরকালে তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ীসহ পুরো প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে ৭ আগস্ট মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্ধারিত ভেন্যু ও আশপাশের এলাকার প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।
এ সময় মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ, মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ এবং মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি প্রধানমন্ত্রীর সফরস্থলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভেন্যুর অবস্থান, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয় কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন।
এ সময় সফরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, জেলা ও থানা পুলিশ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সফর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভিভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারিসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের টাউনশিপ এলাকার হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন।
এরপর তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো মহেশখালীতে আসছেন।
যেহেতু এটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের সরকারি সফর, তাই এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে পর্যালোচনা করবেন।
মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; মহেশখালীকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করার ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা জমি দিয়েছেন, তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীনদের পুনর্বাসন, লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার প্রত্যাশা রয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে মাতারবাড়ীর
মাতারবাড়ী বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উন্নয়ন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প গড়ে উঠছে।
মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)ও এ অঞ্চলের প্রকল্পগুলোকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংযোগ জোরদারের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মহেশখালী, মাতারবাড়ীসহ কক্সবাজারের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং এসব প্রকল্পের সুফল স্থানীয় জনগণের জীবন ও অর্থনীতিতেও আরও দৃশ্যমান হবে।















