কক্সবাংলা রিপোর্ট :: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে থাকবে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে সাদা পোশাকের পুলিশও।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলার প্রধান দুইটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদের প্রধান পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সোলাইমান কাসেমী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন একই মসজিদের সহকারী পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ ওসমান গনি।
এদিকে কক্সবাজার পৌর এলাকার বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে শহরের বদর মোকাম জামে মসজিদে সকাল ৯টায়, বাহারছড়া শাহী জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, বাহারছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, বড়বাজার জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, বইল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, উত্তর টেকপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, তারাবানিয়ার ছড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, মাঝিরঘাট জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, ঝাউতলা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় এবং কলাতলী সুফিবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. সরোয়ার আকবর কক্সবাংলাকে জানান, কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানেও প্রধান জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
মুসল্লিরা যাতে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য দুইটি জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি জামাতে প্রায় ৮ হাজারের বেশি মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য বৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্যান্ডেলে ত্রিপল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ড্রেনেজ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া হালকা বাতাসেও যাতে প্যান্ডেলের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য শক্তভাবে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে।
ঈদগাহ ময়দানের প্যান্ডেল নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্বে থাকা এস.এম ডেকোরেটর্স অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের স্বত্বাধিকারী সাধন দাশ জানান, প্রায় ২০ থেকে ২২ ফুট উচ্চতার বিশাল প্যান্ডেলের আয়তন প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট।
প্যান্ডেল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ মঙ্গলবারের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানসহ জেলার সব বড় জামাতকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে পুরো এলাকায়।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান মুসল্লিদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত।
ঈদের পবিত্রতা রক্ষা করে যাতে সবাই নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জেলাবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।














