মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে চকরিয়া কামারের দোকানগুলো : দা ছুরি বটি শান দিতে ভিড়

🗓 মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :: পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ একেবারে ঘনিয়ে এসেছে। এরইমধ্যে ঈদ ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কামারের দোকানগুলোতে বেড়েছে বিরামহীন ব্যস্ততা।

প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার অন্যতম সরঞ্জাম দা, ছুরি, কিরিচ বটি তৈরি এবং শাণ দেওয়ার জন্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছে কামারের দোকানে।

একইভাবে দোকানের কারিগররাও দিন-রাত এক করে মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরীতে কঠোর পরিশ্রম করে চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারের দোকানগুলোতে কারিগররা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত লোহাকে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপ দিয়ে দা, ছৃরি কিরিচ বটি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দোকানে দোকানে এখন টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা বছর তুলনামূলক সরঞ্জাম তৈরির কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদের সময় জৌলুশ ফিরে আসে কামারের দোকানগুলোতে।

ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তৈরি করা হচ্ছে দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও রামদাসহ কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পুরোনো সরঞ্জাম সান দেওয়ার কাজও চলছে পুরোদমে।

মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সদরের কয়েকটি কামারের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁরা নতুন সরঞ্জাম তৈরির অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছে। পুরানো দা ছুরি বটি যাঁরা আনছেন শুধুমাত্র তাদের গুলো শান দেয়ার জন্য মেমু কাটছেন।

জানতে চাইলে চিরিঙ্গা হিন্দুপাড়া সড়কের কামার দোকানী হারাধন কর্মকার বলেন, কোরবানি উপলক্ষে বেশিরভাগ দোকানে এখন নতুন সরঞ্জাম তৈরির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না।

কারণ গত ১৫ দিনে যে পরিমাণ সরঞ্জাম তৈরির কাজ নেওয়া হয়েছে, এখনো গ্রাহককে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে সরঞ্জাম তৈরির অর্ডার বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পুরাতন দা ছুরি বটি শান দিতে দিতে কারিগররা সময় কোলাতে পারছে না।

চকরিয়া পৌরসভার মগবাজার এলাকার দোকানী নিবাস কর্মকার দাবি করেন, কোরবানি ঈদের সময় একেবারে ঘনিয়ে এসেছে।

এখন নতুন সরঞ্জাম তৈরি করতে হলে কারিগরদের অন্য কাজ বাদ দিতে হবে। আবার জরুরি ভাবে অনেকে নতুন সরঞ্জাম তৈরির জন্য পীড়াপীড়ি করছে, কিন্তু মুজুরির পরিমাণ তুলনামূলক একটি বেশি চাইলে উল্টো ঝগড়া বিবাদ শুরু করে। সেকারণে অর্ডার নিতে বেশিরভাগ দোকানী অনীহা দেখাচ্ছে।

বদরখালী বাজারের কামার দোকানী বাদল কর্মকার জানান, প্রায় এগার বছর ধরে এখানে দোকান করছেন। সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই কিছুটা বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। বাপ-দাদার এই পেশাকে এখনও ধরে রেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “কোরবানির সময় অনেকে পুরোনো দা, বটি ও ছুরি সান দিতে আসেন, আবার কেউ নতুন সরঞ্জাম কেনেন। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।”

চকরিয়া উপজেলাসদরের কামারের দোকানগুলোতে এখন প্রতিটি দা শান দিতে ১০০ টাকা, বড় বটি শান দিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ছুরি সান দিতে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নতুন দা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং ছুরি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

কামারের দোকানে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু জবাই ও পরবর্তী কাজের জন্য তাঁরা দা, বটি ও ছুরি সান দিতে এসেছেন চকরিয়া পৌরসভার টিকাদান সুপারভাইজার মোঃ নাজিম উদ্দীন।

তিনি বলেন, বছরে একবার দা, ছুরি বটি শান দিতে কামারের দোকানে আসতে হয়। তাঁরা এসময় কাজের চাপের কারণে কিছুটা বাড়তি টাকা চায়। তাঁরা সারাবছর দোকান করে, ঘর সংসার আছে, সবকিছু বিবেচনা করে চাহিদা মোতাবেক মুজুরি দিয়ে আমার কাজ আদায় করেছি।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর