বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসময় ভিকটিম এবং স্থানীয় এক বাসিন্দাকে বেদড়ক পিটিয়ে জখম করেছে। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভিকটিম উদ্ধারের লক্ষ্যে পুলিশ সেখানের একটি বাড়িতে অভিযানে যায়।
এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর লাঠিচার্জসহ হামলা চালায়। পরে পুলিশও সেখানে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।
এরইমধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতা পুলিশের ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের কঠোর অবস্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ঈদগাও উপজেলার বাসিন্দা এক মেয়ে (১৭) চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকার নুরুল আমিনের (২৪) (প্রকাশ গুরা মিয়া) সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে।
পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ পূর্বক তাদের বিবাহের সিদ্ধান্ত হয়।
উক্ত সিদ্ধান্ত মেয়ে পক্ষের কয়েকজনের মনমতো না হওয়ায়, এবিষয়ে চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেয়।
ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি টিম শনিবার বিকেলে মেয়েটিকে (ভিকটিম) উদ্ধার করতে গেলে, মেয়েটি পুলিশের সাথে আসতে কোন ভাবেই রাজি হয়নি।
পরে থানা থেকে এসআই মোঃ আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে আরও একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারও মেয়েটিকে আনতে ব্যার্থ হয়ে একপর্যায়ে লাঠি চার্জ করে।
পুলিশের লাঠিচার্জের একপর্যায়ে স্থানীয় নুরু মাঝির ছেলে নুরুল আমিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে।
পরবর্তীতে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে আহত নুরুল আমিনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ভিকটিম যেহেতু অপহরণের শিকার, এবিষয়ে থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তাঁকে উদ্ধার করা পুলিশের পেশাদারিত্ব দায়িত্ব।
পুলিশ এজাহারের ভিত্তিতে ভিকটিম ওই ভিকটিমকে উদ্ধারে গেলে কতিপয় উশৃংখল লোকজন পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা সৃষ্টি করে। পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করেছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা এবং গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।













