বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজারের চকরিয়াস্থ জমজম হাসপাতাল পিএলসি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) তুমুল হৈচৈ ও হট্টগোলের মধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল ভবনের ৫ম তলায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধাঘণ্টা পর পরিচালক রুকন উদ্দিনের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভার শুরুতেই সভাপতির নির্বাচন নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জুর অনুপস্থিত থাকায় সভার সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনা ঘিরে হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে সাধারণ সভার ব্যানারে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পরিচালক কামাল হোসাইনকে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হলে শেয়ারহোল্ডাররা এতে জোর আপত্তি জানান।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সভার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরবর্তীতে হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. ইয়াকুব হোসেনের সভাপতিত্বে সভা পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখেন শেয়ারহোল্ডার ও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, জমজম হাসপাতালের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অনির্বাচিত ও অবৈধ।
সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে কথিত সমঝোতার মাধ্যমে ১৩ জন পরিচালক মনোনীত করা হয়েছে, যা কোম্পানি আইন ও সংঘবিধির পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, সংঘবিধি অনুযায়ী বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ ২১ দিন আগে প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। ফলে এ সভা পরিচালনার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
অপরদিকে শেয়ারহোল্ডার অ্যাডভোকেট জিএএম আশেক উল্লাহ বলেন, সভার নোটিশ ও এজেন্ডায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে।
বাধ্যতামূলক নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন ও পর্যালোচনা, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং এক-তৃতীয়াংশ পরিচালকের অবসর ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই এ সাধারণ সভাকে বৈধ বলা যায় না।
এ সময় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে তুমুল হৈচৈ ও হট্টগোল শুরু হলে সভার সভাপতি ডা. ইয়াকুব হোসেন সভাটি স্থগিত ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ সংশোধন করে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুনরায় সাধারণ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সভা স্থগিতের বিষয়ে ডা. ইয়াকুব হোসেন বলেন, “সাধারণ সদস্যদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে আজকের সভা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধনের পর আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুনরায় সাধারণ সভা আয়োজন করা হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের পরিচালক ও ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. শাহ আলম, হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নূর হোসেন, জেএম সাহাব উদ্দিন, আবুল আহমদ, এহসানুল আনোয়ার, অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক, রিয়াজ মোঃ রফিক সিদ্দিক, হাফেজ মাঃ মুজিবুল হকসহ অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার এবং সংশ্লিষ্টরা।













