বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে সরকার-বিরোধী দল মুখোমুখি

🗓 বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

👁️ ১ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

👁️ ১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১০ জুন) :: ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্কে জড়িয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের সাংসদরা। বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত নিয়োগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে বিএনপি। জবাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ইসলামী ব্যাংকের টাকা ব্যবহারের অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে, ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী  আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এভাবেই সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে বিতর্কে জড়ান।

সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বসে অধিবেশন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টানেন বিরোধী দলের সাংসদরা। বিরোধীদলীয় সংসদ উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয় এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিতর্কিত পর্ষদ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘এই ভুয়া কোম্পানিগুলোর ২৬ জন আছে। এদের মধ্যে আছে এস আলমের বাসার চাকর, তার চাকরানী, তার পিয়ন, তার কর্মচারী- এ ধরণের বহু লোককে দিয়েই একেবারে ভুয়া কোম্পানি গঠন করে। আপনার ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা এই ইসলামী ব্যাংক থেকে সরিয়েছিল।’

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছে নাবিল গ্রুপ। এছাড়া, নির্বাচনেও ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে জামায়াত।

মন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এর কোনো হদিস নাই। আমি নামই বলি, নাবিল গ্রুপকে এলসি’র অ্যাগেইনস্টে ৭০০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে। পরে মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। দুষ্টু লোকেরা বলে সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে। এবং তারা একটা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেই টিভি চ্যানেলটা কোন পক্ষে খেলছে সেটা আমরা জানি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রমাণ দেয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সংসদকে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার জানতে চাই উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) জামায়াতকে এটার (তার বক্তব্যের) দ্বারা মিন করেছেন কিনা। যদি উনি মিন করে থাকেন, আমি চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি (আই অ্যাম টেকিং অ্যাবসোলিউ চ্যালেঞ্জ)। উনি এটা প্রমাণ করতে পারলে, আমি তাকে একটা মেডেল দেব পার্সোনালি।’

বিরোধীদলীয় নেতার চ্যালেঞ্জের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, নিজের নামে তো টাকা তোলেননি জামায়াত নেতারা।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যাংকটাকে ঘিরে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে…এই ব্যাংকটিকে ঘিরে যে সুবিধাবাদী রাজনীতিতে অর্থায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, এটা শুধু ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা রাজনীতির মধ্যে ঢুকে পড়েছে।’

ব্যাংকের অস্থিরতাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অভিযোগও করেন অর্থমন্ত্রী।

 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামের দোহাই দেওয়া সব বিষয়ে মোটেও সমীচীন নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।

কারও নাম উল্লেখ না করে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে, তার যে যাতনা হচ্ছে সেটা তারা বুঝতে পারছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে, তকবরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে। এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার।’

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তার তালিকা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পরে মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুষ্টু লোকেরা বলে, সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে।

নাবিল গ্রুপকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার ব্যাংক লাইবিলিটি (দেনা) হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হচ্ছে না? সে জন্য তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসের (প্রধান কার্যালয়) অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাঁদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইন–কানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা নয়, তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।’

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারধারীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছে দ্যাট ইজ ডিফারেন্ট ডিবেট (সেটা আলাদা বিতর্ক)। সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। বাট শেয়ারহোল্ডার ইজ শেয়ারহোল্ডার (তবে শেয়ারধারীরা শেয়ারধারী)।

৯ দিনে ৫৪০০ কোটি টাকা তুলে নিলেন গ্রাহকরা : ধার চাওয়া হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা

ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের হার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। ৯ দিনে গ্রাহকরা তুলে নিয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি। এ সময় নতুন আমানত এসেছে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় তারল্যসংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতে দেশের সবচেয়ে বড় হিসেবে খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানটি। এই মুহূর্তে নগদ টাকার সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যে হারে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে একসময় তাদের পক্ষে আর সবাইকে টাকা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হলেও গ্রাহকের আস্থা ততদিনে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট অনেকেই।

চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

সূত্র জানায়, তার এই নিয়োগের পর ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ ব্যানারে আন্দোলনও চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের শাখাগুলো থেকে টাকা তুলে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুরশীদ আলমের নিয়োগ গত ২৪ মে হলেও ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন থেকে ব্যাংক খোলার পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। ৯ দিনে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের জমা থাকা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) পজিটিভ অবস্থা থেকে নেগেটিভ হয়ে গেছে। সিআরআর বা নগদ সংরক্ষণ হার হলো ব্যাংকের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা নগদ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোকে গড়ে ৪ শতাংশ সিআরআর সংরক্ষণ করতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গ্রাহকও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তখন বঞ্চিত গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের দোহাই দেবে। এসব ঘটনা দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ। সরকারের জন্যও খারাপ।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন স্বীকার করেন, কিছু গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে টাকা তোলার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বললেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংককে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। গ্রাহকরা নগদ টাকা তুলে নিচ্ছেন, নাকি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। ব্যাংকটি এমন অবস্থায় নেই যে তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। যদি ইসলামী ব্যাংক তারল্যসংকটে পড়েও, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দেবে।

ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ব্যাংকটির সিআরআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। তবে গত এক সপ্তাহে গ্রাহকদের আতঙ্কজনিত অর্থ উত্তোলনের কারণে সোমবার সিআরআর নেগেটিভে চলে গেছে।

ব্যাংকটির চাহিদা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এতদিন তার চেয়েও বেশি রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে তা কমে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে আন্দোলনের মুখে তিনি ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যান করা হয় ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদকে। তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছিলেন গ্রাহকরা। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তা আমলে নেয়নি। পরে তিনি দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যান।

এদিকে খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল দাবিতে গতকাল ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে টানা ৯ দিনের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ গ্রাহক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর