মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কূটনীতি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা

🗓 রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

👁️ ৩৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

👁️ ৩৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২১ জুন) :: প্রথম বিদেশ সফরে ২১ জুন রোববার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার সন্ধ্যায় চার দিনের সফরে চীনে যাবেন তিনি। এই সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি দুই দেশের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ২০টির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম যুগপৎ মালয়েশিয়া-চীন সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারই করবে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত এই সফরসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

ছোট কিন্তু কার্যকর প্রতিনিধিদল

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। ২৭ থেকে ২৮ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা।

মালয়েশিয়ায় গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও আসিয়ান সহযোগিতা

মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে—

  • বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
  • জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি সহযোগিতা
  • হালাল অর্থনীতি ও খাদ্যশিল্প
  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অংশীদারত্ব
  • কৃষি, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন
  • ডিজিটাল অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, কর্মী প্রেরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সমর্থন এবং আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে।

সফরে সংস্কৃতি বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

চীনের সঙ্গে ১৭টি পর্যন্ত চুক্তি হতে পারে

পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীন সফরে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)
  • ২টি আনুষ্ঠানিক চুক্তি
  • ১টি কর্মপরিকল্পনা
  • ১টি প্রটোকল

এ ছাড়া দীর্ঘদিন আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সামার দাভোসে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন।

সফরকালে কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউইএফ সম্মেলনে ‘Climate Leadership in a Shifting Global Landscape’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও অংশ নেবেন।

বেইজিংয়ে বিনিয়োগ আহ্বান ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ বক্তব্য দেবেন। সেখানে তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং উৎপাদন খাতের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবেন।

পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক, ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা

সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। পরে তিনি বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে নতুন দিক উন্মোচন করবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত ভারসাম্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অতীতের সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম বন্ধ করে অন্যান্য দেশের মতো উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গঠন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর