নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে পিতা-পুত্রের দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এতে ধারালো দায়ের কোপে ভগ্নিপতির ডান হাত, বোনের বামহাতের একটি আঙুল শরীর থেকে সম্পুর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এসময় মাদরাসা পড়ুয়া সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ভাগ্নেকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহত স্বামী-স্ত্রী দম্পতি বর্তমানে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালো চিকিৎসাধীন রয়েছে আর ছেলে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালে ‘পার্কভিউ’তে চিকিৎসা নিচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের দরগামোড়া এলাকায়।
আহতরা হলেন টৈটংয়ের কাটাপাহাড় এলাকার মুহাম্মদ পারভেজ (৪৫), তার স্ত্রী জুবাইদা বেগম (৩৮) ও ছেলে তাকিবুল হাসান (১৪)। হাসান বনকানন একটি মাদরাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।
আহত জুবাইদা বেগম বলেন, পৈত্রিক বসতভিটার সম্পত্তি নিয়ে তার পিতা নুরুন্নবী ও সৎ ভাই আজিজুর রহমান এর মধ্যে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছে।
গত এক সপ্তাহ আগে আজিজ ভিটের একটি জায়গায় জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে। এতে তাদের পিতা বাধা দিলে মারধর করে আহত করে আজিজ।
এ ঘটনায় পিতা বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেন। পুলিশ গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে তদন্তের জনয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় আজিজ পুলিশ আসার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয় যান।
জুবাইদা আরও বলেন, পুলিশকে অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তার সৎ বড় ভাই আজিজ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আজিজুর রহমান ধারালো দা নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসে হাকাবকা করেন।
এসময় উঠানে অবস্থান করা তাকিবুল হাসানকে প্রথমে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাঁর মা জুবাইদাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান। শ্বশুর বাড়ির পাশে নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন পারভেজ। লোকজনের আর্তচিৎকারে
এ সময় শ্বশুরবাড়িতে ছুটে আসেন জোবাইদা বেগমের স্বামী মো. পারভেজ। তিনি অভিযুক্তকে থামানোর চেষ্টা করলে তার হাতে থাকা ধারালো কিরিচের কোপে পারভেজের ডান হাত শরীর থেকে সম্পুর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। বর্তমানে তারা ঢাকার একটি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুঠোফোনে মো. পারভেজ জানান, ঘটনার সময় তিনি পাশের কাটা পাহাড় এলাকায় নিজ বাড়িতে ছিলেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানের চিৎকার শুনে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আজিজুর রহমান কিরিচ দিয়ে তার ডান হাতে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বিচ্ছিন্ন হাতটি আর সংযোজন করা সম্ভব নয়। এছাড়া তার স্ত্রী জোবাইদা বেগমের একটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আজিজুর রহমান এর আগেও একাধিকবার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিলেন। তখন পারিবারিক সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও তিনি সেই সমঝোতা ভঙ্গ করে পুনরায় হামলা চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা গ্রহণ, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পেকুয়া থানার পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, নুরুন্নবী ও আজিজ পিতা পুত্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। নুরুন্নবী তার ছেলে আজিজ ও ১ম স্ত্রীকে নানা ভাবে মানসিকভাবে নির্যাতন করত। সমাজের কারও কথাও শুনতেন না নুরুন্নবী।
পিতা পুত্রের দ্বন্ধের বলি হয়েছেন পারভেজ তার স্ত্রী ও পুত্র। সেদিন আজিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগও দেন নুরুন্নবী। তবে আজিজের এ ধরণের ফৌজদারি অপরাধ মোটেও সমর্থন যোগ্য নয়।













