কক্সবাংলা ডটকম(২১ জুন) :: বিশ্বব্যাপী স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, ভবিষ্যতে নিজস্ব Starlink-সদৃশ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কনস্টেলেশন গড়ে তুলে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে দাবি করেছে SatCom Industry Association-India (SIA-India)।
সংস্থাটির সভাপতি সুব্বা রাও পাওলুরি (Subba Rao Pavuluri) বলেছেন, ভারতের হাতে বর্তমানে এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রয়েছে—দীর্ঘদিনের মহাকাশ প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি মহাকাশ শিল্প এবং সাম্প্রতিক মহাকাশ খাত সংস্কার। এসবের সমন্বয়ে দেশটি বৃহৎ পরিসরে নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক নির্মাণে সক্ষম।
তিনি জানান, Indian Space Research Organisation (ISRO) গত কয়েক দশকে স্বল্প ব্যয়ে স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত এখন নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ পেয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে SpaceX-এর Starlink, Amazon-এর Project Kuiper, Eutelsat-OneWeb এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।
এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো Low Earth Orbit (LEO)-এ হাজার হাজার স্যাটেলাইট স্থাপন করে বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতও যদি একই ধরনের বৃহৎ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, সীমান্ত এলাকা, দ্বীপাঞ্চল এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এর ফলে ডিজিটাল বিভাজন (Digital Divide) কমবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার আরও ত্বরান্বিত হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মহাকাশ খাতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার আনা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ শিল্প উন্মুক্ত করা, IN-SPACe প্রতিষ্ঠা, নতুন মহাকাশ নীতি প্রণয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সম্প্রসারণ দেশীয় স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বর্তমানে Skyroot Aerospace, Agnikul Cosmos, Pixxel, Dhruva Space-এর মতো একাধিক ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দশকে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে বৈশ্বিক ডিজিটাল অবকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
এ খাতে সফলভাবে বিনিয়োগ করতে পারলে ভারত শুধু অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, বরং বহু বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারবে।
এছাড়া প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নজরদারি, কৃষি প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এমন একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ভারতের কৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে একটি দেশীয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কনস্টেলেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা ভবিষ্যতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।














