শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়ার্ল্ড ভিশনের জব ফেয়ারে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা : দক্ষতাই বদলে দিচ্ছে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ

🗓 বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ২৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ২৭ বার দেখা হয়েছে

জাবেদ আবেদীন শাহীন :: সাগরের ঢেউয়ের গর্জনে প্রতিদিন যে শহর জেগে ওঠে, সেই কক্সবাজারেই এবার শোনা গেল নারীর আত্মনির্ভরতার আরেক জাগরণের সুর।

বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে কিশোরীদের সুরক্ষা এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্বকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়েছে জব ফেয়ার।

তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ জন নারী ও কিশোরী সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি হয়ে তুলে ধরেছেন নিজেদের অর্জিত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই জব ফেয়ার প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ ও চাকরির মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি বাস্তবমুখী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) কক্সবাজার শহরের কলাতলী মেইন রোডের দ্য সুইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এ জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের উপযোগিতা এবং সম্ভাব্য নিয়োগের বিষয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়।

একই সঙ্গে হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনসেবা খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড প্রটেকশন, এডুকেশন অ্যান্ড জিইএস কো-অর্ডিনেটর শাহানাজ পারভীন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর জগন্ময় প্রজেস বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহনেওয়াজ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জনী।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট ম্যানেজার সাগর ডি কস্তা, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথি মো. শাহনেওয়াজ বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিরও অন্যতম অনুঘটক। প্রশিক্ষিত কিশোরীরা যখন নিজেদের উপার্জনের সক্ষমতা অর্জন করবে, তখন তারা পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বর্তমান শ্রমবাজারে শুধু প্রশিক্ষণের সনদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তব কর্মদক্ষতা, পেশাগত আচরণ, যোগাযোগ সক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা। হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও হসপিটালিটি খাতে এসব দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়বে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন তার হাতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট ম্যানেজার সাগর ডি কস্তা বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সনদ বিতরণ করা নয়। প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে, ইন্টার্নশিপের সুযোগ পায় এবং নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে—সেই সংযোগ তৈরি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজার একটি পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে হোটেল, রিসোর্ট ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় নারীদের স্থানীয়ভাবেই প্রশিক্ষিত করে স্থানীয় কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করা গেলে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নারীর আত্মনির্ভরতার পথও সুগম হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটনসেবাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ে। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাজারচাহিদাভিত্তিক ও ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হোটেল ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা, কম্পিউটার ও প্রযুক্তির ব্যবহার, গ্রাহকসেবা, পেশাগত আচরণ, নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি জব ফেয়ারের মাধ্যমে সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করেছে।

বক্তারা বলেন, একটি কিশোরীকে শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত করাই যথেষ্ট নয়; তাকে এমনভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা মোকাবিলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। কারণ চাকরি হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু অর্জিত দক্ষতা একজন মানুষকে নতুন সুযোগের সন্ধান দিতে পারে।

তাদের মতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিকল্প সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। যে কিশোরী নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শেখে, দক্ষতা অর্জন করে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখতে পায়, তার জীবনে অকালবিবাহের চাপ প্রতিরোধের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

আয়োজকরা মনে করেন, স্থানীয় নারীদের স্থানীয় কর্মবাজারের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন পরিবারের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পও পাবে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ।

তিন মাস আগে যারা ছিলেন কেবল প্রশিক্ষণার্থী, আজ তারা দাঁড়িয়েছেন সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের দ্বারপ্রান্তে। হাতে সনদ, অর্জিত দক্ষতায় আত্মবিশ্বাস আর চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন—ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এই উদ্যোগ তাদের সামনে যে নতুন পথ খুলে দিয়েছে, সেটি শুধু চাকরির পথ নয়; বরং আত্মমর্যাদা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে গড়ে তোলার পথ।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

এই বিভাগ এর আরো খবর

ঈদগাঁও উপজেলায় অভিযান, জরিমানা আদায়

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর